
কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ডিসি নুসরাত সুলতানা। আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। জেলার মানুষের কাছে তিনি যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছেন- এমন মন্তব্য করছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, নুসরাত সুলতানা কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় ১১ মাস আগে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি চরাঞ্চলের মানুষের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। চরের মানুষের জীবনমান দেখে তিনি তাদের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। অবহেলিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, এবং বেকার যুব-মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ চরাঞ্চলকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সম্প্রতি নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ৪, ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর সবুজ পাড়ায় প্রায় ৪০ হাজার চরবাসীর চলাচলের জন্য একটি কাঠের সেতু ও একটি রাস্তার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়াও, তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে- ১০টি সোলার প্যানেল স্থাপন, ১টি শিশু পার্ক, ১টি হাই স্কুলের জন্য স্থান নির্ধারণ, কবরস্থান উঁচুকরণ এবং অর্ধশতাধিক যুব মহিলাকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
তাদের তৈরি করা নকশি কাঁথা নিজে পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য বিক্রয় ও ঋণ সহায়তার ব্যবস্থাও করেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিবেশবান্ধব ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বরাদ্দ করেন। নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ব্যবহারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝুনকার চরে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছেন ডিসি নুসরাত সুলতানা।
তার এ নিরলস কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে চরাঞ্চলের মানুষ বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা ডিসি নাম শুনেছি, কিন্তু কখনো দেখিনি। আজ সেই ডিসি আমাদের ঘরের দুয়ারে এসেছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করি। যদি এমন ডিসি দেশের সব জেলায় থাকতেন, তাহলে আমাদের মতো অবহেলিত মানুষেরও ভাগ্য বদলে যেত।
এসময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ, নাগেশ্বরী থানা ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ময়দান আলী, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান, ৬ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং চর এলাকার শতাধিক মানুষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম