প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:১৭ পিএম

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তুলতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে একটি ছোট আকারের (১০০ কিলোওয়াট) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে নাসা। এ প্রকল্পের লক্ষ্য চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে মানুষের বসবাস সম্ভব হবে।
নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শন ডাফি বলেছেন, “চাঁদে ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, মঙ্গলগ্রহে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে এ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রযুক্তিকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে নাসার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।” ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে দরপত্র আহ্বানও করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। কারণ, নাসার বাজেট সীমিত হয়ে পড়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন ও রাশিয়াও ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করেছে। ফলে মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, চীন ও রাশিয়া শিগগিরই চাঁদের নির্দিষ্ট অঞ্চল নিজেদের বলে ঘোষণা দিতে পারে। নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আসলে দ্বিতীয় মহাকাশ দৌড়ে জয়ী হওয়ার লড়াই।”
নাসাকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্প নেতৃত্ব নির্বাচন ও শিল্পখাতে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই চুল্লিটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়েই চীনের প্রথম নভোচারী চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ