প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম

'ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট যখন ফরহাদ গুলিবিদ্ধ হয়, তখন এই সংবাদ শুনে আম্মা অজ্ঞান হয়ে যান'-দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫' উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভায় শহীদ ফরহাদের স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
ফরহাদের স্মৃতিচারণকালে তিনি বলেন, "আমার আম্মার হৃদরোগের সমস্যা আছে। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট ফরহাদ আন্দোলনে গিয়েছিল। আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনে তিনি আর সহ্য করতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের অবস্থা একই রকম।"
তিনি আরো বলেন, ''ফরহাদ আমাদের পরিবারে সবচেয়ে ছোট ছিল। কিন্তু ও ছিল বেশি দায়িত্ববান। আমার পিতা-মাতাকে সে সবচেয়ে বেশি স্বান্ত্বনা দিত। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত টিশার্ট নিয়ে আসতাম। সব টিশার্ট ও নিয়ে নিতো। কিন্তু এখন আর টিশার্ট নেওয়ার কথা কেউ বলে না"।
কিবরিয়া বলেন, ''জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অনেক ছাত্র জনতা শহীদ হয়েছেন। শহীদের রক্তের উপর দিয়ে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মান হয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে"।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এ সেমিনার ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তরুয়াসহ আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, লোকপ্রশাসনের বিভাগের সভাপতি ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বক্তব্য দেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ