
রংপুরের মিঠাপুকুরে এক কলেজভর্তি-প্রত্যাশী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে তার ভবিষ্যৎ পড়ালেখা ও কলেজে ভর্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামের এহিয়া মণ্ডলের মেয়ে কোমরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই স্কুলের ও একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন পাশ্ববর্তী যাদবপুর গ্রামের মোস্তাকিম মিয়া (২০), পিতা মোলাম মিয়া। একই ক্লাসে পড়তে গিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি দুই পরিবারের জানা জানি হলে বিরোধ দেখা দেয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুন কোমরগঞ্জ বাজার থেকে মোস্তাকিমকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সামসুজ্জোহা বাবুর বাড়িতে নিয়ে যায় ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন। সেখানে মোস্তাকিমকে মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর মোস্তাকিমের পরিবারের কাছে মামলা না করার শর্তে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তবে তার বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রয়োজনে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
এক মাস পর ২৫ জুলাই, ছেলেকে ছাড়ার দীর্ঘ সময় পর, ছাত্রীর বাবা এহিয়া মণ্ডল বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’-এর ৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মোস্তাকিম পিকনিকে গিয়ে মেয়ের কিছু ছবি তোলেন এবং সেগুলো দেখিয়ে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করেন। এক পর্যায়ে মোবাইলে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা এডিট করে ‘জান্নাতুল মাওয়া’ নামে একটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে মেয়েটির চাচা মামুনুর রশিদ মণ্ডলের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান।
তবে মোস্তাকিমের বাবা মোলাম মিয়া দাবি করেন, ‘ছেলের ফোন তারা কেড়ে নেয় এবং টাকা না পেয়ে সাজানো মামলায় ফাঁসায়। মামলায় বলা হয়েছে যে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করা হয়েছে, সেরকম কোনো আইডি আমার ছেলে চালায় না। ভিডিওটি ছড়ানোর সময় মোবাইলটি মেয়ের পরিবারের হেফাজতে ছিল।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘মানিক মিয়া নামে এক সাবেক ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা মীমাংসার নামে টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় মামলার নাটক সাজানো হয়।’
স্থানীয় রাঙা মিয়া বলেন, ‘ঘটনার সময় মোবাইল ঝন্টু মিয়ার জিম্মায় ছিল। মোবাইলে কিছুই ছিল না। পরে শোনা যায়, নাকি ভিডিও পাওয়া গেছে! এটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।’
অন্যদিকে, ওই ছাত্রীর পরিবারও প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মোস্তাকিম মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং তার নগ্ন ভিডিও ছেড়ে তাদের মারাত্মক সম্মানহানি করেছেন। ফলে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে। তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে সুষ্ঠুভাবে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম