
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
টাঙ্গাইলের দুই প্রধান সরকারি হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে আইসিইউ সংকট, চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। জনবল সংকট, বিশেষ করে আইসিইউ-দক্ষ চিকিৎসক ও স্টাফ নার্সের অভাবে ইউনিটটি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, “সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও জনবল না থাকায় আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ভর্তি হয়। ডাক্তার-নার্স সংকটে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
একই অবস্থা টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও। সেখানে এখনো আইসিইউ চালু করা যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কদ্দুস বলেন, “অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল ঘাটতির কারণে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্সও নেই।”
জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৫৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২টি পদ শূন্য, একই সঙ্গে ১৭ জন নার্স, তিনজন প্যারামেডিক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির তিনজন এবং চতুর্থ শ্রেণির ৩০টি পদ খালি রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগীর সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মহাসড়ক ঘেঁষা এলাকা হওয়ায় টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে গুরুতর আহতদের অবিলম্বে আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়। কিন্তু তা না পেয়ে রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয় এবং অনেকেই পথে মারা যান।
টাঙ্গাইল অ্যাম্বুল্যান্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ মিয়া বলেন, “জরুরি রোগীদের ঢাকা পাঠাতে প্রতিদিন গড়ে সাত-আটটি অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার হয়। মূলত মেডিকেল কলেজ, হৃদরোগ হাসপাতাল, নিউরো এবং পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয় এসব রোগীকে।”