শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
১২০ বছর বয়সী সেই বৃদ্ধ কারাগারে কেন, জানা গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৯:২৪ AM

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তিকে আদালতে আনা হচ্ছে। ছবি গুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে- ‘এই বৃদ্ধ লোককে দেখে কি কোনোভাবে মনে হয় তিনি জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের সাথে ঝামেলা করেছেন? তার বয়স ১২০ বছর, অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’

এই দাবি দেখে অনেকেই ভাবছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে এত বৃদ্ধ একজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানার এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রচারিত ছবিতে প্রদর্শিত প্রায় ১২০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার কারণে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। বরং, ২০০৩ সালের এক হত্যা মামলায় আলোচিত বৃদ্ধ ইদ্রিস শেখ কারাগারে আছেন। এই মামলায় বৃদ্ধ ইদ্রিস শেখের বিরুদ্ধে রায়ও হয়েছে ২০১৫ সালে।

অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একটি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে আজ (৩০ জুলাই) ‘লাঠি হাতে আদালতে শতবর্ষী ইদ্রিস শেখ, প্রিজন ভ্যানে বাবাকে দেখেই কেঁদে ফেললেন ছেলে’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর মিল পাওয়া যায় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ছবিগুলো মূলত ওই ঘটনার ভিডিওটি থেকেই নেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটিতে বলা হয়, ‘প্রচারিত দৃশ্য গত ২৯ জুলাইয়ের। প্রদর্শিত বৃদ্ধের নাম ইদ্রিস শেখ। বৃদ্ধ ও বৃদ্ধের ছেলের দাবি অনুসারে ইদ্রিস শেখের বয়স ১২০ বছর। এছাড়াও, ভিডিওটিতে ইদ্রিসের আত্মীয়কে বলতে শোনা যায়, ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইদ্রিস শেখ কারাগারে আছেন।’

পরবর্তীতে ওই তথ্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ওই সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে ‘আসামি শতবর্ষী ইদ্রিস শেখের আদালতে হাজিরা ও প্রিজন ভ্যানে যাত্রা’ শীর্ষক শিরোনামে আজ (৩০ জুলাই) এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘ইদ্রিস শেখ হাজতখানার ভেতরে ঢুকে যান। তখন হাজতখানার সামনেই অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁর ছেলে বাবুল শেখ। বাবুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমারই বয়স এখন ৭০ বছর। আমরা পাঁচ ভাই–বোন ছিলাম। আমার আরো তিন ভাই মারা গেছেন। আমার বাবার বয়সী কোনো লোক এলাকায় বেঁচে নেই। বহু বছর আগে একটি খুনের মামলায় আমার বাবাকে জড়ানো হয়েছিল। সেই মামলার ঘানি টেনে চলেছেন উনি।’

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, মামলার নথিপত্রের তথ্যমতে, ইদ্রিস শেখদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর থানার শেখেরটেক এলাকায়। ২২ বছর আগে সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় জনৈক শামসুল হক হাওলাদার ও সিরাজুল হক মোল্লার পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন শামসুল হক হাওলাদার।

পূর্ববিরোধ ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০০৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেখেরটেক এলাকায় শামসুল হক হাওলাদার ও সিরাজুল হক মোল্লার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শামসুল হক হাওলাদারের লোকজন ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সৈয়দ আলী ও সুলেমান মোল্লা নামে দুজন নিহত হন। গুরুতর জখম হন আরো ৩০ জন। এই ঘটনায় সৈয়দ আলী ও সুলেমান মোল্লার পরিবার রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই মামলাটি তদন্ত করে সে বছরের আগস্ট মাসে শামসুল হক হাওলাদারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ১০ নভেম্বর মাদারীপুরের আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেজেট হওয়ার পর ২০১০ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ আদালতে বদলি হয়। প্রায় পাঁচ বছর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি–তর্ক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন। রায়ে এ মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় একজনকে। আর ইদ্রিস শেখসহ নয়জনকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে কারাদণ্ড। ইদ্রিস শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়। রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, রায়ের দিন ইদ্রিস শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।’

অর্থাৎ, ২০০৩ সালের এক হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আটক আছেন। তাছাড়া, তার কারাবাসের রায়ও জুলাই আন্দোলনের আগেই হয়েছে।

সুতরাং, ২০০৩ সালের এক হত্যা মামলায় ইদ্রিস শেখ নামের এক বৃদ্ধের কারাগারে আটক থাকার ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  বৃদ্ধ   কারাগার  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close