
পাবনায় জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ
পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে পাবনা কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ করে ভুক্তভোগীরা।
আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। বিক্ষুব্ধ অংশগ্রহণকারীরা এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে জেলা রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি দায়িত্বে থেকে দীপক কুমার সরকারের দান করা জমির রেজিস্ট্রেশনেও ঘুষ দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রেশন ঘিরে উৎকোচ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, “মাসে চার-পাঁচ দিনের বেশি অফিসে দেখা মেলে না তার।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের এই কর্মকর্তার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে বিপুল সম্পদের মালিকানা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকায় দুটি অভিজাত ফ্ল্যাট, শ্বশুরের নামে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে একটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা সিটিতে দুটি দোকান, যমুনা ফিউচার পার্কে একটি দোকান এবং পূর্বাচলে ১৮ কাঠার একটি প্লট রয়েছে, যা তাঁর ভাইয়ের নামে রেজিস্টার করা। এছাড়া, তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করেন প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি, রয়েছে টয়োটা প্রিমিও গাড়িও।
একজন জমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন রেজিস্ট্রার দীপক। যদিও পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নেন, শেষপর্যন্ত আপসে সমাধান হয় বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, একটি জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সারা দেশের নকলনবিশদের চলমান আন্দোলনে তিনি গোপনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার গুলশান-২ এর একটি বিলাসবহুল হোটেলে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে, যা তার জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ সম্পর্কে জানতে দীপক কুমার সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধরা মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন, “চরিত্রহীন, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রারকে অপসারণ করো।” তাঁরা দীপক কুমার সরকারকে একজন বিতর্কিত ইসকন সদস্য বলেও দাবি করেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার অপসারণের দাবিতে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন ভুক্তভোগীরা।