প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫, ৩:০৮ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রামে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে বাজারের ১০টি দোকানে তালা লাগিয়ে দখলে নেওয়ার ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার আহম্মেদপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রুহুল আমিন (৪৫), তার ভাই জামায়াত কর্মী আজিমুদ্দিন (৪০), বিএনপি কর্মী হায়দার আলী (৪৮) এবং তাদের বাবা মুজিবর রহমান (৭০)। তারা সবাই আহম্মেদপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কোরবান আলী, শাহ আলম হোসেন ও মোতালেব হোসেন।
বাদী জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন ও তার ভাইয়েরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৪০-৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসহ দোকানে হামলা চালায়, মারধর করে এবং ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দোকান খোলার অনুমতি নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কোরবান আলী জানান, বিকেলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দোকানগুলো অবমুক্ত করে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
তবে রুহুল আমিন দাবি করেন, “এই জমি আমাদের। দীর্ঘদিন ধরে তারা দখল করে রেখেছে। আমরা কোর্টে মামলা করেছি। তবে এভাবে দোকানে তালা দেওয়া উচিত হয়নি।”
বিএনপি কর্মী হায়দার আলী জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য জামায়াত নেতাদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং উভয় পক্ষ ১৫ হাজার টাকা করে জামানত জমা দেয়। কিন্তু প্রতিপক্ষরা সিদ্ধান্ত মানেনি, তাই দোকানগুলো দখল করা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, “পদ্ধতিটা ঠিক হয়নি।”
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, দোকানে তালা দিয়ে দখলের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে