
‘জুলাই আন্দোলন কেন একটি অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হয়ে উঠবে?’ এই প্রশ্ন রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা।
রোববার (২৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ২৪ মিনিট ধরে চলা এক লাইভে তিনি বলেন, ‘জুলাই ছিল এক বড় অভিজ্ঞতা। মানুষ অসম্ভব রকমের লড়াই করেছে। আমার কল্পনাতেও আসেনি যে কেউ এটা দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে। কিন্তু মুখপাত্র হওয়ার পর আমি দেখেছি, কেউ কেউ এই আন্দোলনের নামে টেন্ডার-তদবিরে জড়িয়েছে, ডিসি নিয়োগেও প্রভাব বিস্তার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে কেন একটা মানি মেকিং মেশিন বানানো হলো তা আমার বোধগম্য নয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও, বাস্তবে তা-ই হয়েছে।’
উমামা জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তিনি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখেছেন। ছাত্র ফেডারেশন করার সময় আমরা ৩০-৪০ জনের মিছিল করতাম, “স্বৈরাচার নিপাত যাক” স্লোগান দিতাম। কখনো ভাবিনি সেই স্লোগান একদিন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে হাজারো মানুষ দিবে, জীবন দেবে।’ এই স্বপ্ন নিয়েই আমরা এক বছর ধরে টিকে ছিলাম। পরে দেখলাম, সমন্বয়কের পরিচয়ে বিভিন্নজন নানা জায়গায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে, চাঁদাবাজি করছে। এমনকি সরকারি দলের রক্ষীবাহিনীর মতো ভূমিকা নিচ্ছে। ৫২, ৬২ বা ১৫৮ জন সমন্বয়ক যে হয়েছে, সেগুলো সেভাবে ফাংশন করছিল না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছিল। তবে সমন্বয়ক টার্মটা সে সময় দরকার ছিল, যাতে সবাইকে কানেক্ট করা যায় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, সমন্বয়কদের চেয়ে অন্যদের সহযোগিতা বেশি পেয়েছিলাম।’
আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সমন্বয়কদের অনেকের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ক বাহিনী হয়তো সেভাবে অস্ত্র দিয়ে হয়নি। কিন্তু তখন সবার সঙ্গে আলাপ করে আমার মনে হয়েছে, এখন আসলে বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের আসলে দরকার কি? এটা তো শুধু ছাত্রদের। এখন দরকার, সবাইকে একোমোডেট করা যায়, সেটা ভাবা উচিত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, তাদের আর কীই-বা করার আছে। এটা আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।’
‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে যাওয়ার কারণে অনেকগুলো ডিমেরিট আমরা ভোগ করছি’—মন্তব্য করে উমামা বলেন, ‘ওইগুলো বলার কারণেই আমি প্রচুর শত্রু বানিয়ে ফেলেছি। এত মানুষ আমাকে খারাপ ভাবা শুরু করে যে আমি রীতিমতো তব্দা খেয়ে যাই। পরে জেলায় জেলায় গিয়ে দেখেছি, অনেক ভালো ভালো ছেলে কিছু করতে চায়। ওরা দেশটাকে পুনর্গঠন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলেন যে আমি কত হাজার কোটি টাকা কামাইছি? তাদের আমি বলতে পারি, আমার একটি ভালো জীবন আছে। ভালো পরিবারের সদস্য। এত খারাপ অবস্থা আসে নাই। আমার স্কলারশিপের জন্যও প্রয়োজন নাই। আমার পরিবারের সাপোর্ট আছে। তারা চায়, আমি দেশের জন্য কিছু করি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ