প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, ৮:১২ পিএম আপডেট: ২৭.০৭.২০২৫ ৮:৩০ PM

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতে মাশুল (ট্যারিফ) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে সরকারি গেজেট জারির অপেক্ষায় রয়েছে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শনে গিয়ে মাশুল বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে, তা তিনি জানাননি।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, তারা ১০-১৫ শতাংশ মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও এখন তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে ব্যবসায় ব্যয় বেড়ে যাবে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি জানান, সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে মাশুল বাড়ানো হয়েছিল, এবার গড়ে ৩০-৪০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।
বন্দর সচিব বলেন, বন্দরের সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে। এটি একটি সরকারি সংস্থা। সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ছে। ভোক্তা পর্যায়ে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না। মাশুল যে হারে বাড়ানো হয়েছে এর খুবই নগণ্য প্রভাব হয়তো ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। সব কিছু হিসেব করেই বিভিন্ন পর্যায়ে মাশুলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিপিং এজেন্টস অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বন্দরে বিভিন্ন লাইনে (খাতে) মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেসবের সঙ্গে একমত নই। এখন মাশুল বাড়ানোর সময়ও নয় বলে মনে করি। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাশুল নতুন করে বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সময়ে মাশুল বাড়ানো হলে তা রপ্তানি খাত, শিল্পায়ন ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠন মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মাশুল বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য সেবার মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ