প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, ৫:৫৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১-৩ ফুট অধিক উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে সেন্টমার্টিন। এ ঘটনায় দ্বীপে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দ্বীপের বিভিন্ন অংশের গাছপালা ভেঙে লোকালয়ে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে করে আতঙ্কে রয়েছেন দ্বীপের ১০ হাজার বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত টানা তিনদিন ধরে বৈরী
আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
দ্বীপে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি। নিরাপত্তার
স্বার্থে মাছ ধরার ট্রলারগুলো জেটির আশপাশে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে তিনদিন ধরে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।
ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “অমাবস্যার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১-৩ ফুট অধিক উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে দ্বীপের বিভিন্ন অংশের গাছপালা ভেঙে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এতে করে শতাধিক বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। দ্বীপের চারদিকে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলানো না হলে মানচিত্র থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হারিয়ে যাবে।”
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের মানুষ খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংকটে ভুগে আসছিল। এখন নৌযান বন্ধ থাকায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ফুরিয়ে এসেছে। আরো কয়েকদিন এভাবে থাকলে খাদ্যপণ্য এবং টেকনাফ থেকে কোনো খাদ্য পণ্য না পৌঁছালে প্রকট খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এখানকার মানুষের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সি ট্রাক ও সি অ্যাম্বুলেন্স চালু করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।”
টেকনাফ পৌরসভার কাযুকখালীযাখালের সার্ভিস ট্রলারের টিকেট বিক্রেতা মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘‘গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এ নৌরুটে যাত্রীবাহী চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাগর উত্তাল হয়ে পড়ার কারণে মালিক সমিতি ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রলার চলাচল শুরু করবে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নৌযান চালু হবে।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান,
তিনদিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ। বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন
থেকে পারিবারিক কাজে টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরে গিয়ে আটকা পড়েছেন দুইশতাধিক
মানুষ।