
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’- এর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে (চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত) উঠে এসেছে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গভীর উদ্বেগজনক চিত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এই ৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৭২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৭৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৯ জন নিহত ও ৯৭৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, আর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন।
আরও বলা হয়, গণপিটুনির শিকার হয়ে ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা বিচারবহির্ভূত সহিংসতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ২০৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন নারী ও ১০৯ জন কন্যাশিশু রয়েছে। কন্যাশিশুর মধ্যে ১৩ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং ৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া, ১৪ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ১১ জন নারী যৌতুকের কারণে হত্যা হয়েছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার যৌথ বাহিনী গঠন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সময়েও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হওয়া এবং নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ, একজন র্যাব, একজন কোস্টগার্ড এবং একজন যৌথ বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হন।
কারাগারের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশের সব কটি কারাগারের ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী রয়েছে। এই সময়ে চট্টগ্রাম কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বেশি বন্দী ছিল। কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। বন্দীরা গুরুতর অসুস্থ হলে এবং তাদের উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে অনেক বন্দীর উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়। গত তিন মাসে ২২ কয়েদি কারাগারে মারা যান। তাদের মধ্যে ২১ জন অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন।’
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্যাতনের নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে বিএসএফের গুলিতে ৯ বাংলাদেশি নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনকে গুলি করে এবং ২ জনকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৩০ জুন পর্যন্ত নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ১ হাজার ৭৮৩ জনকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক নিপীড়নের নিয়ে অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৩০ জন আহত, ১৬ জন লাঞ্ছিত ও ১১ জন হুমকির শিকার হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, প্রশাসন, মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারাও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও অধিকারের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম