প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৫ পিএম আপডেট: ২৩.০৭.২০২৫ ৭:০৭ PM

পটুয়াখালীর দুমকিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের আগ্রাসন। গাঁজা ও ইয়াবার সহজলভ্যতায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত গড়ে উঠেছে ‘মাদকের হাট’। একাধিক এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে অনেকটা প্রকাশ্যে। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা গাঁজা ও ইয়াবা।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুমকি উপজেলা শহরের হলপট্টি, পবিপ্রবি ফাস্ট গেট, খামারবাড়ি, সরকারি জনতা কলেজ গেট, হাসপাতাল সড়কসহ শতাধিক স্পটে চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা।
মাদক পাচারে নৌ ও সড়ক পথে গড়ে উঠেছে একাধিক নিরাপদ রুট। সড়ক পথে বরিশাল হয়ে উপজেলা পায়রা সেতু পার হয়ে এবং ঢাকা-চরগরবদি নৌপথে গাঁজা আসে সদরঘাট, ফতুল্লা ও চাঁদপুর থেকে। এসব চালান ভোর রাতে চরগরবদি লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। সেখান থেকে সড়ক পথে দুমকি ঢোকে। নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে চালান পৌঁছার পর তা ভাগ হয়ে যায় পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের হাতে। হোম ডেলিভারি, মোবাইল কল এবং ‘হাতে হাতে’ চলছে বিক্রি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাদক সেবনকারী জানান, ২৫গ্রাম গাঁজা বিক্রি হয় ১হাজার টাকায়, একটি ইয়াবা বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়।
উঠতি বয়সি তরুণরাই এর প্রধান ক্রেতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বা প্রশাসন যখনই অভিযানে যায় তার আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। ফলে তারা সরে পড়ে বা মজুদ গোপন করে রাখে। যে কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা। সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের অসাধু একাংশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এত বড় মাদক চেইন চলতে পারে না। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় দরকার সামাজিক আন্দোলন এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা।
এ প্রসঙ্গে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বহু মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের কাছে তথ্য এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সমাজের সচেতন মানুষদের সাহস করে তথ্য দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন /কেআইকে