
সংগৃহীত ছবি
মাইগ্রেন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিল রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র ও পুনঃপুন মাথাব্যথা।
সাধারণত এ ব্যথা ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং সময়ের ব্যবধানে আবার দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে বমি ভাব, বমি, আলো ও শব্দে অতিসংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে ব্যথা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতে এর মাত্রাও কমানো সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ শরীরের পানিশূন্যতা। পানির ঘাটতিতে রক্তপ্রবাহে সমস্যা দেখা দেয় এবং মাথায় চাপ বাড়ে, যা ব্যথা বাড়িয়ে তোলে। অনেক সময় ঘাম বা বমির কারণে পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন। এটি ব্যথা উপশমে সহায়ক এবং মাইগ্রেন প্রতিরোধেও কার্যকর।
২. ঠান্ডা সেঁক নিন
মাথা, কপাল বা ঘাড়ে ঠান্ডা সেঁক দিলে ব্যথা হালকা হয়। বরফের প্যাক, ঠান্ডা জেল প্যাক বা ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় ব্যবহার করে কয়েক মিনিট সেঁক দিতে পারেন।
৩. পুদিনা তেল ব্যবহার করুন
পেপারমিন্ট অয়েল বা পুদিনার তেলে থাকা মেনথল পেশি শিথিল করে এবং মাথাব্যথা উপশমে সহায়তা করে। নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কপালে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়। ত্বক স্পর্শকাতর হলে ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
৪. শান্ত ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নিন
তীব্র আলো ও উচ্চ শব্দ মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে তোলে। ব্যথা শুরু হলে অন্ধকার, নীরব ও ঠান্ডা ঘরে কিছু সময় বিশ্রাম নিন। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৫. ঘুমের রুটিন মেনে চলুন
নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম মাইগ্রেন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। খুব কম বা অতিরিক্ত ঘুম—দুটোই ব্যথা বাড়াতে পারে। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন এবং একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৬. আদা চা পান করুন
আদা মাথাব্যথা, বমি ভাব ও গা গোলানো কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ গরম পানিতে কিছুটা আদা ফুটিয়ে আদা চা তৈরি করে দিনে ১–২ বার পান করুন। এটি স্নায়ু শিথিল করে ও রক্তসঞ্চালন উন্নত করে।
৭. রিবোফ্ল্যাভিন (ভিটামিন বি২) গ্রহণ করুন
দুধ, চিজ, মাছ ও মুরগির মাংসে পাওয়া যায় ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্ল্যাভিন। এটি মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও গ্রহণ করা যেতে পারে।
৮. যোগব্যায়াম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন করুন
যোগব্যায়াম ও ডিপ ব্রিদিং বা শ্বাসনিয়ন্ত্রণ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়, পেশি শিথিল করে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে। প্রতিদিন কয়েক মিনিট ব্যায়াম করলে মাইগ্রেনের প্রবণতা হ্রাস পায়।
৯. অ্যালকোহল ও কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলুন
অ্যালকোহল, চকলেট, অতিরিক্ত চিজ বা ক্যাফেইন অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেন ট্রিগার করে। এসব খাবার চিহ্নিত করে বর্জন করা উচিত।
১০. ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান
গাঢ় সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও গোটা শস্যে পাওয়া যায় ম্যাগনেশিয়াম, যা মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
১১. আকুপ্রেশার অনুশীলন করুন
আকুপ্রেশার হলো চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাপ দিয়ে ব্যথা কমানো হয়। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে কার্যকর একটি পয়েন্ট হলো ‘এল আই–ফোর’, যা বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝখানে। সেখানে কয়েক মিনিট আঙুল দিয়ে চাপ দিলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।