
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে সহপাঠীদের প্রাণহানির ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তারা দিয়াবাড়ি গোলচত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। যা সকাল ১১টা পর্যন্ত চলছিল।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি হলো:-
১. নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
২. আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
৩. শিক্ষকদের গায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাত তোলা- এই জঘন্য ঘটনার জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. নিহত প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫. বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো প্লেনগুলো বাতিল করে আধুনিক প্লেন চালু করতে হবে।
৬. বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিবর্তন করে আরো মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা শতাধিক হলেও সরকারিভাবে ‘মাত্র ২৭ জন’ নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, প্রকৃত তালিকা প্রকাশ না করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের বন্ধুরা মারা গেছে, কেউ কেউ এখনো লাইফ সাপোর্টে। অথচ নামটা পর্যন্ত জানানো হচ্ছে না। এটা কি আমাদের প্রাপ্য নয়?’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা গোপনের অভিযোগ সঠিক নয়।
সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ২৫ জন শিক্ষার্থীসহ ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭০ জন, যাদের চিকিৎসা চলছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস চলছিল, ফলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে একটি স্বচ্ছ তদন্ত ও মানবিক প্রতিক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম