
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ৪র্থ শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার নাটক সাজিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছে রাতের আধারে সালিসের নাম দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপির এক নেতা।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান খোকন সুবর্নচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও স্থানীয় খাসের হাট বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী।
সেনা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ জুলাই স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান খোকন লোকজন দিয়ে আমাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়, যাওয়ার পথেই খোকনের লোকজন আমাকে মারধর করে আহত করে। তারপর খাসের হাট বাজারে খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে সেখানে তার পছন্দের কয়েকজন লোক দিয়ে কথিত সালিশ বৈঠকে আমাকে আবারো মারধর করে এবং আমার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমার নাতনীর সাথে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়।
পরে আমি আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে গেলে খোকন ও তার সহযোগীরা স্ট্যাম্পে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে সেদিনের মতো ছেড়ে দেয়। পরে আমি মারাত্মক আহত হয়ে সদর হসপিটালে ভর্তি হই, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হসপিটাল (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসি।
সেনা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, গত কিছুদিন আগে আমি একটা জমি বিক্রি করি, মূলত খোকন এবং তার সহযোগীরা সেই টাকা আত্মসাৎ এর জন্য আমার সাথে এই নাটক সাজিয়েছে।
আমি একজন সেনা কর্মকর্তা, আমার ছেলেও সেনাবাহিনীতে যুক্ত রয়েছে, আমার বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোনো অভিযোগ থাকতো তাহলে থানায় জানাতে পারতো, আমাদের সেনাবাহিনীর সংগঠন রয়েছে সেখানে অভিযোগ করতে পারতো, তা না করে খোকন নিজে কিভাবে সালিস করে?
তবে সালিশের বিষয়টি পুরোপরি অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান খোকন বলেন, “এমন কোনো ঘটনা এলাকায় ঘটেনি, সালিশও হয়নি। তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।”
সালিশে উপস্থিত এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আব্দুর রহমান খোকন প্রায়শই এ ধরনের সালিশ করে থাকেন এবং উভয় পক্ষ থেকেই সুবিধা নেন। তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড. এবিএম জাকারিয়ার ভাতিজা হওয়ার কারনে কেউ তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
সালিশ বৈঠকে চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. গোলাম মাওলা, সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা জামাল উদ্দিন ছিলেন বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে স্থানীয় চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. গোলাম মাওলার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্ষনের অভিযুগে বিএনপি নেতা তাকে সালিশ হবে বলে সেখানে ফোন করে নিয়ে যায়, পরে সবার সম্মতিতে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ১০ বেত্রাঘাত ও চড়-থাপ্পড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” আমি এর বেশি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, এই ধরনের একটা ঘটনা বলে কেউ একজন সালিশ করার জন্য আমাকে ফোন দেয়, আমি বলেছি সালিশ করলে আমাকে ফোন দিয়েছেন কেনো, থানায় অভিযোগ করুন। তবে এরপর এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিএনপি নেতা খোকনের প্রশ্রয়ে স্থানীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা দলের নাম বিক্রি করে বিভিন্ন অপকর্ম করছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে