
উন্নয়নের নামে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) চলছে লাগাতার বৃক্ষ নিধন। সর্বশেষ ভিসি বাংলোর সামনের লন টেনিস কোর্ট তৈরির জন্য কাটা হচ্ছে প্রায় ১৮ বছরের পুরোনো গাছ। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাংলোর সামনে দেখা যায় সারি সারি গাছ কাটা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, প্রশাসনের অনুমতিতেই তারা গাছ কাটছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, এই লন টেনিস কোর্ট নির্মাণের অনুমোদন ছিল পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে। ইচ্ছা না থাকলেও অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে তাদের। তবে যতটুকু প্রয়োজন, শুধু ততটুকু গাছই কাটা হবে বলে জানা যায়।
তবে এটি প্রথম নয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক উন্নয়নের নামে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার পাশে থাকা বহু গাছ কেটে ফেলা হয়। অথচ এখনো সেই সড়কের কাজ অসমাপ্ত, শুরু হয়নি ড্রেন নির্মাণও। একইভাবে ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ওশানোগ্রাফি বিভাগের জন্য রিসার্চ শেড তৈরির অজুহাতে নীলদিঘির পাড়ের বহু পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু সেই কাজের মেয়াদ শেষ হলেও আজও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এমন ধারাবাহিক গাছ কাটা এবং প্রকল্পের অদূরদর্শিতায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান দূর্জয় বলেন, “নতুন প্রশাসন আসার পর থেকেই যেন গাছ কাটার উৎসব শুরু হয়েছে। অথচ সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই এসব করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণেরও নেই কোনো কার্যকর নীতিমালা। গত বছর আমি ব্যক্তিগতভাবে ১০০টি গাছ লাগিয়েছিলাম। পরিচর্যার অভাবে গাছগুলোর বড় হতে পারেনি। প্রশাসন পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে একসময় এই ক্যাম্পাস মরুভূমিতে পরিণত হবে।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আল জোবায়ের জিসান বলেন, “নোবিপ্রবি উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার মাটি লবণাক্ত। ফলে গাছ বেড়ে ওঠে ধীরে। এমনিতেই ক্যাম্পাসে ছায়া নেই। এখন যেটুকু ছিল সেটুকুও কেটে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে এমন পরিবেশবিনাশ শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ‘ল্যাব নির্মাণের’ অজুহাতে বহু গাছ কেটে ফেলা হয়, কিন্তু আজও কাজ শুরু হয়নি। এসব কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে।”
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজুওয়ানুল হক বলেন, “লন টেনিস কোর্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে। আমরা বন বিভাগ থেকে এক হাজার গাছ উপহার পাচ্ছি। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি গাছের পরিবর্তে চার-পাঁচটি গাছ লাগাব । পূবালী ব্যাংক থেকেও গাছ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি বিভাগ মিলে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ নিয়ে কাজ করছে।”
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো শুরু হবে। রাস্তার কাজ ও ড্রেন নির্মাণ শেষ হলে সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে।
উন্নয়ন হোক টেকসই ও পরিবেশবান্ধব এমনটাই এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে