প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩০ AM

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাত ৮ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পুরো জেলায় কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সকালে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি নিয়ে শহরে মিছিল বের করে এনসিপি নেতাকর্মীরা। সকাল ৯ টার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনসিপির দাবি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের মিছিলে বাধা দিয়ে হামলা চালায়।
সদর উপজেলার কংশুর এলাকায় পুলিশের গাড়ি, ইউএনওর বহর, জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও জেলা কারাগারের আশপাশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দুপুর ২ টার দিকে এনসিপির শীর্ষ নেতারা সমাবেশে যোগ দিলেও ফিরে যাওয়ার সময় আবার হামলার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে সন্ধ্যায় এনসিপির শীর্ষ নেতাদের গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এনসিপি অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাপ্রবাহের সময় নীরব ছিল।
ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগ, পদ্মা সেতু টোল প্লাজাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক সূত্র জানিয়েছে, রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় গোপালগঞ্জে অতিরিক্ত দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শহরের প্রবেশমুখে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করায় অনেক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম