প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৯:২১ পিএম আপডেট: ১৬.০৭.২০২৫ ৯:২৫ PM

সংগৃহীত ছবি
‘মেটে জন্ডিস’ শব্দটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। সাধারণত মেটে জন্ডিস বলতে এমন ধরনের জন্ডিসকে বোঝানো হয়, যেখানে চোখ বা ত্বকে হালকা ধূসর বা ম্লান হলুদাভ রঙ দেখা যায়। এটি সাধারণ জন্ডিসের মতো তীব্র না হলেও এর পেছনে জটিল শারীরিক সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।
সম্ভাব্য কারণ
আংশিক বিলিরুবিন বৃদ্ধি: জন্ডিস মূলত রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার ফল। যখন বিলিরুবিন অল্প পরিমাণে বাড়ে, তখন চোখ ও ত্বকে হালকা হলুদ বা মেটে রঙ দেখা দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী লিভার সমস্যা: লিভারের কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে মৃদু জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
রক্তকোষ ভাঙার রোগ: হ্যামোলাইটিক অ্যানিমিয়া রোগে রক্তকোষ ভেঙে বিলিরুবিন তৈরি হয়, যা রক্তে ফিরে গিয়ে মেটে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস ও পিত্তথলির রাস্তায় বাধা: ক্রনিক হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বা পিত্তনালিতে পাথর আটকে গেলেও এমন ধরনের জন্ডিস হতে পারে।
উপসর্গ
মেটে জন্ডিস হলে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা যেতে পারে, যেমন ক্ষুধামন্দা বা খাওয়ায় অরুচি, বমি বমি ভাব বা বম, ত্বক বা চোখের মেটে রঙের পরিবর্তন, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব হওয়া, ফ্যাকাসে মলত্যাগ, দুর্বলতা ও ওজন হ্রাস, পেট ফুলে যাওয়া (পেটে পানি আসা বা লিভার, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া) ও শরীর চুলকানো।
করণীয়
উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজনমতো লিভার ফাংশন টেস্ট, আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে থাকেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। এবং সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। ঘরোয়া চিকিৎসা, ভেষজ বা ঝাঁড়ফুঁকের প্রতি ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।