
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এদেশে আওয়ামী লীগের জায়গা হবে না।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় গণতান্ত্রকে হত্যা করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলো শেখ মুজিব। পিতা ছিলো ফ্যাসিস্ট, কন্যা ডাবল ফ্যাসিস্ট।”
আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের সঞ্চালনায় ও সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মেঘমল্লার বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি প্রমুখ।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ৩৬ দিনে হয়নি। গত পনেরো বছরের শোষণ-নির্যাতনের কারণে এ আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়েছে। ২০২৪ এর ডামি নির্বাচন হওয়ার পরে আমরা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম স্বৈরাচারের পতন ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। তখন কেবল একটি ধাক্কার প্রয়োজন ছিলো। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই ধাক্কা।”
তিনি আরো বলেন, “এদেশে আওয়ামী লীগের জায়গা হবে না। আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করা যাবে না। তবে আওয়ামী লীগের যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নয়, তাদের একটা রিকন্সিলিয়েশন প্রসেসের মাধ্যমে শোধরানোর সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, তাদের বিচারের প্রশ্নে এক বিন্দুও সুযোগ দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “এ রক্তদানকে যারা কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে, বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে তারা ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।”
জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের পরবর্তীতে কোন সরকার ক্ষমতায় এসে যাতে অভিযুক্ত করতে না পারে এজন্য জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি জমা দিয়েছি। কিন্তু ঐক্যমত্য কমিশন এটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি।”
এছাড়াও, গত ৮ আগস্ট থেকে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম
রাকিব বলেন, “ছাত্রদলের কেউ যদি কোন ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব কায়েম করতে চায়
তাহলে আমাদের অবহিত করবেন। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমরা
ছাত্রবান্ধব রাজনীতি করতে চাই। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।”