প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ৯:৩৩ পিএম

ফাইল ছবি
পুরো নির্বাচনী আসনের ভোটগ্রহণ বাতিলের ক্ষমতা আবারও ফিরে পেতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অষ্টম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “ভোটে কোনো কারচুপি হলে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট বাতিলের ক্ষমতা আমাদের ছিল। তবে একটি সম্পূর্ণ নির্বাচনী আসনের ভোটগ্রহণ বন্ধ বা বাতিলের যে ক্ষমতা এক সময় কমিশনের হাতে ছিল, তা আগের কমিশন বাতিল করে দেয়। এবার সেই ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি এবং আশা করছি এটি অনুমোদিত হবে।”
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই ক্ষমতা আইন থেকে বাদ দিয়েছিল, যা নিয়ে তৎকালীন সময়েই বিতর্ক দেখা দেয়।
এদিন হলফনামা ও প্রার্থীদের তথ্য সংক্রান্ত অন্যান্য সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “প্রার্থীদের হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া রোধে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা ঘোষণা দিতে হবে, প্রয়োজনীয় সনদপত্র জমা দিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “প্রার্থীদের সারাজীবনের ফৌজদারি মামলার ইতিহাস হলফনামায় প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া নিকট আত্মীয়—যেমন নির্ভরশীল ভাই-বোনসহ—সবার সম্পদের বিবরণ দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুসরণ করেই করা হচ্ছে।”
বর্তমান আইনে অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ করে সানাউল্লাহ বলেন, “হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে, নির্বাচন কমিশন যেন তা তদন্ত করে প্রার্থীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে—এই ক্ষমতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করা হবে।”
নির্বাচন কমিশনের এমন পদক্ষেপকে আসন্ন রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পেলে ইসি আগের চেয়ে বেশি কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর