বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
হাজারো পরিবারের দুঃস্বপ্ন আর্থিক মাফিয়া এস আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ১:৫৫ পিএম আপডেট: ১০.০৭.২০২৫ ৩:৪২ PM

আলোচিত শিল্পপতি সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলম এখন হাজারো চাকরিচ্যুত তরুণ-তরুণীর দুঃস্বপ্নের নাম। এক সময় যিনি চাকরি দেবার দেবতা বলে পটিয়ায় পূজিত হতেন, তিনিই এখন হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারি, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থপাচারের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামভিত্তিক কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এস আলম বছরের পর বছর একটি নির্দিষ্ট এলাকা- বিশেষত পটিয়ার বাসিন্দাদের- বিনা পরীক্ষায়, সুপারিশে কিংবা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিতেন। ২০১৯ ও ২০২৪ সালে এসব ব্যাংকে নিয়োগে নিয়মনীতি তছনছ করে দেওয়া হয়।

এসব ব্যাংকের নিয়োগের ‘নিয়ম’ ছিল লাইনে দাঁড়ানো, দরখাস্ত জমা দেওয়া আর এস আলমের বাড়ির মমতাময়ী নজর পাওয়া। বহু পরিবার এই সুযোগে নিজের সন্তানকে চাকরিতে বসিয়েছে; আবার অনেকেই কিস্তিতে, চড়া সুদে টাকা তুলে ‘চাকরি কিনেছে’। শুধু তাই নয়, এস আলমের বাড়ির সামনে বাক্স বসানো হতো চাকরি প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহের জন্য। মসজিদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের ডাকা হতো। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এস আলমের ঘনিষ্ঠজনরা চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতো মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের অধিকাংশই চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব, হতাশ আর ঋণে জর্জরিত।

জানা যায়, এসব নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রর্থীদের মধ্যে  দুই-তিন জন ছাড়া কেউ উত্তীর্ণ হতে পারতেন না। পাশ করতে না পারলে তারা এস আলমের স্বরণাপন্ন হয়। তার বাসায় ‍গিয়ে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকতেন নিয়োগ পরীক্ষায় পাস না করা প্রার্থীরা। পরে তার হুকুমেই চাকরি হতো তাদের সবার। একইভাবে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয় পরীক্ষায় পাস না করা প্রার্থীদের। যাদের চাকরি অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

এভাবেই তার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হতো বছরের পর বছর। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ পেতো একটি নির্দিষ্ট এলাকার লোকজন। আর এভাবেই হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষের কাছে দেবতা সমতূল্য। তবে এই চাকরির দেবতার ছন্দপতন হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর। আর একের পর এক বেড়িয়ে আসে এই চাকরির দেবতার আসল রসহ্য।

এস আলমের হুকুমে চাকরি পাওয়া একজন হলো জালাল হোসেন। তিনি গরীব পরিবারের সন্তান। বাবা কাজ করেন শুটকির আড়তে। ভালো ছাত্র হওয়ার পরেও আর্থিক সচ্ছলতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। তবে অনার্স পাশ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়াশুনার পাশাপাশি বাবার সাথেই পরিবারের হাল ধরতে বাবার শুটকির আড়তেই কাজ করতেন তিনি। হঠাৎ একদিন রাস্তায় দেখেন কিছু তরুণ তরুণী লাইন ধরে দাড়িয়ে আছেন। পরে দাড়িয়ে থাকা একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন এস আলম তাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সেখান থেকে ফিরে এসে একটি বায়োডাটা নিয়ে লাইনে দাড়িয়ে গেলো জালাল। এর পরিই এস আলমের হুকুমে ট্রেইনি এসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার পদে চাকরি হয় তার।

কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাদের আকাশে মাথায় ভেঙ্গে পরেছে। জালালের ভাষায়, ‘অনার্স পাশ করে যখন মাস্টার্স-এ পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ঠিক ঐ সময়ে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ব্যাংকে চাকরি হয় আমার। চাকরি পেয়ে পড়াশোনায় ভাটা পরে। মাস্টার্স ও শেষ করতে পারি নাই। এখন চাকরিতে আবেদন করার বয়স পার হয়ে গেছে। চাকরি চলে যাওয়ায় আমার পরিবার নিয়ে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পরেছি। সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো ঐ সময় লাইনে দাড়িয়ে বিনা পরীক্ষায় চাকরি নেয়া।’

জানা যায়, আরেক ভুক্তভোগী অভাবি পরিবারের বড় সন্তান আবদুল করিম। ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর পরিবার থেকে পড়ালেখার খরচ চালাতে না পারায় জীবিকার তাগিদে কাজ শুরু করেন সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে। সাগরে মাছ ধরে বেশ ভালোভাবে চলতো তার পরিবার। একদিন তার এক বন্ধু তাকে খবর দেয় এস আলমের ব্যক্তিগত সহকারী তার পরিচিত। পরে করিমকে চাকরির কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেয় তার ও বন্ধু। এরপরে লাইনে দারিয়ে পান ১৮ হাজার টাকা বেতনের চাকরি। তবে ৫ আগস্টের পরে আবদুল করিমেরও চাকরি চলে যায়। দিশাহারা হয়ে পরে আবদুল করিমসহ তার পরিবার।

আকলিমা নামের এক ভুক্তভোগীর চাকরি নেওয়ার ঘটনায় বেরিয়ে আসে আরেক চঞ্চল্যকর ঘটনা। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরপরই বিয়ে হলে আর পড়াশুনা করার সুযোগ হয়নি তার। পড়াশুনার সুযোগ না হলেও ভুয়া অনার্সের সার্টিফিকেট বানিয়ে স্বামী আলতাফ হোসেনের বন্ধুর স্ত্রী লায়লা এস আলমের কাজের মেয়ে হওয়ার সুবাদে তার মাধ্যমে এস আলমের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি ব্যাংকে চাকরি নেন আকলিমা।

এবার জানা যাক আরেক ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেনের চাকরি নেওয়ার কথা। মাস্টার্স পাশ করে অনেক চাকরির পরীক্ষা দিলেও চাকরি না হওয়ায় বেকার যুবকে পরিণত হয় ইকবাল হোসেন। তবে এই বেকারত্বের অবসান ঘটে খুব তারাতারি। এস আলমের এক আত্মীয়ের সাথে পরিচয় হলে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ব্যাংকে চাকরির প্রস্তাব পায় ইকবাল। চাকরি নিতে ধার-দেনা ও চড়া সুদের ওপর ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করে চাকরি নেয় ইকবাল। তবে ৫ আগষ্টের পরে চাকরি চলে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পরে সে। সে জানায় ঋণের কিছু টাকা এখন ও পরিশোধ করা বাকি আছে তার।

স্বপ্ন ভাঙ্গার এরকম হাজারো গল্প রয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের। আর্থিক খাতের মাফিয়া এস আলম বিদেশে অর্থ পাচারে ব্যবহার করতে গিয়ে হাজার হাজার মেধাবী তরুণ তরুণীদের ভবিষ্যত ঠেলে দিয়েছেন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে। এস আলমের ব্যক্তিগত সহকারী, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, কাজের লোক সবাই জড়িত ছিলো এই অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যে। শুধু অবৈধ নিয়োগ দিয়ে টাকা হাতিয়েই থেমে থাকেনি এই চক্র। বদলী বাণিজ্য, প্রমোশন বাণিজ্য ও কমিশন খেয়া, এমনকি ঋণ পাইয়ে দেয়াসহ নানাবিধ অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলো তারা।

দেশের অন্য জেলাগুলো হতে বদলী হয়ে চট্টগ্রামে আসতে হলে ১ লাখ থেকে শুরু করে ৩ লাখ পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হতো প্রত্যেক চাকরিজীবিকে। পদ ভেদে বাড়তো টাকার পরিমান। প্রমোশনের ক্ষেত্রে ও চলতো তদবির বাণিজ্য। সেখানেও পদ ভেদে ২ লাখ থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা নেয়া হতো। এস আলম নিয়ন্ত্রীত ব্যাংকগুলো নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রমোশন, বদলি, বিনিয়োগসহ সবক্ষেত্রেই ছিলো অনিয়মে ভরপুর।

এখন চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব হাজার হাজার তরুণ তরুণীদের পরিবার মানব মন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পটিয়ার চাকরিহারা তরুণ তরুণীদেরকে পরিবারসহ প্রায়ই এ ধরণের মানববন্ধন করতে দেখা যায়। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামবাসীদের মধ্যে। মানব বন্ধনে তারা চাকরি ফিরিয়ে দেয়া, ভবিষ্যতে কাউকে চাকরি হতে বহিস্কার না করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এদের মধ্যে অনেককেই এস আলম পরিবারের কাউকে এই পরিস্থিতিতে পাশে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পেজে সম্প্রতি এধরণের একটি মানববন্ধনের ভিডিও দেখা যাচ্ছে। এতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। প্রতিক্রিয়াগুলোর কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হলো:- রহিম উদ্দিন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, অবৈধভাবে নিয়োগের সময় রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদ করেন নাই কেন? 

রেদওয়ান মিসবাহ চৌধুরী আরিফ তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘সর্বপ্রথম আমাদের সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের সেই দুঃখজনক দিনটির কথা স্মরণ করি—যে দিন ৬৭২ জন কর্মকর্তা একসাথে চাকরি হারালেন। পরের দিন থেকেই আমাদের ভাই-বোনেরা একটানা প্রায় ১২০ দিন রাস্তায় আন্দোলন করেছেন। কখনো মানববন্ধন, কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো অনশন কিংবা সড়ক অবরোধ। সরকারের একাধিক দপ্তরে গিয়েছেন, লিপি দিয়েছেন, দিনের পর দিন ঘুরেছেন। নাম না প্রকাশ করা অনেক বড় ভাইয়ারা আমাদের সাথে ছিল সব ধরনের সাপোর্ট করে গিয়েছে। এমনকি আমাদের কিছু ভাই-বোন অনশন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ থানায় রাত কাটিয়েছেন। সেই রাতে পুলিশের মার খেয়েছে যারা, তা কেবল তারাই জানে। এই সবকিছুর পরেও আমরা কোন ফল পাইনি। তবুও আমার ভাই-বোনেরা আশা হারায়নি। দিনের পর দিন বেকার থেকে যখন পরিবারে চাপ বাড়তে থাকে, তখন কেউ কেউ চাকরির খোঁজে নেমে পড়ে, কেউ চাকরি পেয়ে যায়, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে প্রবাসে চলে যায়। আজও কেউ কেউ পটিয়া ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছে শুধুমাত্র চাকরির খোঁজে। পরিশেষে বলব—যারা আমাদের এই ন্যায্য আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাংবাদিক, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন, সাধারণ জনগণ— আমাদের সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি রইল অন্তরের গভীর থেকে সালাম ও কৃতজ্ঞতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা আসে পাশে ছিলাম, চাইলে এদের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারতাম উপস্থিত সংখ্যা বাড়াতে পারতাম আমরা তা করি নাই এরা তো আমাদের জন্য রাজপথে নামছে আপনারা তার মুল্য দিতে পারেন নাই লজ্জা হয় আমার যেই সব চাকরিচ্যুত ভাই বোনেরা সোশ্যাল মিডিয়া লম্বা লম্বা কথা বলেন বাস্তব ভিন্ন।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আমার জানামতে, প্রত্যেক ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে যদি অন্তত ২ জন করে প্রতিনিধি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করত, তাহলে আমাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতো, আন্দোলন হতো আরও প্রাণবন্ত। আমি প্রায় সময় সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ভাই-বোনদের পক্ষ হয়ে পোস্ট করি। এজন্য আমাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে নানা হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। তবুও বলব—আমরা ন্যায়ের পক্ষে, আমরা সত্যের পক্ষে।’

আবদু সরকার নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ইসলামি ব্যংকে কোন প্রকারের যোগ্যতা ছাড়া চাকরি! শূধু মাত্র পটিয়া এলাকার বাসিন্দা এটাই যোগ্যতা?

মহাকালের মুসাফির তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আপনাদের চাকরির নাম দিয়ে এস আলম বাবা যে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করে দেন।

এমডি শাহিদ জানিয়েছেন, ইন্টারভিউ ছাড়া, পরীক্ষা ছাড়া আসল নকল না দেখে কানা-লেংড়া দের কে চাকরি দিয়েছে এস আলম। তার প্রতিষ্ঠানে পটিয়ার কোন ঘর বাদ যায় নাই। এস আলম ছাড়া নিজের যোগ্যতা থাকলে চাকুরী নাও নিজে। বেশী হেডাম থাকলে পাবলিক পেইজে এসে চাকুরী ভিক্ষা চাইতে হবে কেন?

এমডি গোলাম রসুল লিখেছেন, ‘এস আলম সব টাকা নিয়া গেল। টাকা ফেরৎ আনুক। তা নাহলে এই লোকদের বেতন ভাতা কোথা থেকে দিবে। আপনি যেহেতু গলাবাজি করতেছেন তো আপনি বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তাহলে কারো চাকরি যাবেনা। সাইফুল আলম মাসুদ পটিয়ার মানুষের কছে আশীর্বাদ হয়ে থাকতে পারতেন। অথচ এই লুটেরা পটিয়ার মানুষের জীবন, জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। পরিকল্পিতভাবে অর্থপাচারের কাজে ব্যবহার করেছে হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে। মুখোশের আড়ালে এহেন কোনো অপকর্ম নেই তা তিনি করেননি। একটি সম্ভাবনাময়ী দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছেন এই আর্থিক খাতের মাফিয়া। দেশ থেকে টাকা পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ পৃথিবীর নানা দেশে।’

নিজেকে দানবীর প্রমান করতে ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে যাকাতের টাকা চুরি করে প্রতিবছর অনেক মানুষ হজে পাঠাতেন আর্থিক খাতের মাফিয়া এস আলম। শত শত গরু কোরবানী করে ঈদুল আযহায় মানুষকে সপ্তাহব্যাপী খাওয়াতেন। দান করতেন মসজিদ মাদ্রাসায়। মুখোশের আড়ালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার মদদ পুষ্ট এস আলম ব্যাংক লুট করে টাকা পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু করে বিদেশে গড়েছেন সম্পত্তির পাহাড়।

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালায়। পরিবারসহ বাংলাদেশের নাগরিত্ব ছেড়ে দেয়া সাইফুল আলম মাসুদ আগেই পাড়ি জমায় সিঙ্গাপুর। তার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয় অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। নতুন বোর্ডের অধীনে ব্যাংকগুলোতে চলে শুদ্ধি অভিযান। ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচারে সহযোগিতাকারী এবং অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে অনেকেই চাকরি হারায়।

এখন ভুক্তভোগী ও সাধারন মানুষের দাবি হলো- গণঅভ্যূথানের মধ্য দিয়ে নতুন করে স্বাধীন হওয়া দেশে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। এস আলমসহ অর্থপাচারের সাথে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগীতা নিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে দেশ ও দেশের মানুষকে।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  এস আলম     






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close