
গত বছরের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি না ভুলতেই চলতি বর্ষায় গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
“ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়” প্রবাদ বাক্যের মতো পরিস্থিতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামবাসীর। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি না ভুলতেই চলতি বর্ষায় গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ জুলাই) সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার বালুজুরি খালের গতবছরের বন্যায় ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় আশপাশের এলাকা দিয়ে। যার ফলে নিমজ্জিত হয় অনেক আমন বীজতলা। পানি প্রবাহিত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক গুলোর উপর দিয়ে।
একই চিত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে উপজেলার সব’কটি ইউনিয়নের। এরমধ্যে ফেনীর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে পানি বেড়েছে। জগন্নাথদিঘী, চিওড়া, গুনবতী ও আলকরা ইউনিয়নের অনেক গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। মৎস চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষের মাছ রক্ষার্থে জলাশয়ের চারপাশে নেটের বেড়া দেয়ায়। তবে ইতোমধ্যে নীচু এলাকার কিছু জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে।
এছাড়াও, গত বছরেরর মতো আতঙ্কিত সবাই। নীচু এলাকা গুলোতে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত আমন বীজতলা ও সবজি বাগান। আতঙ্কিত মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিরা। পানি বেড়েছে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী নীচু বসতভিটা গুলোতে। উপজেলার পৌরসভা ও দক্ষিণের আলকরা, জগন্নাথ, চিওড়া ও গুনবতী ইউনিয়নের অনেক গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের বন্যায় উপজেলার অনেক কৃষক আমন রোপন করতে পারেনি। এই মৌসুমে আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৮,১৯০ হেক্টর। ইতোমধ্যে ২৫০০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেককে পাঁচ কেজি করে বীজ ধান, বিশ কেজি সার প্রদান করা হয়। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে উপজেলার অনেক কৃষকের আমন বীজতলা।
উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে সরব রয়েছেন উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।
সরানো হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন খালবিলে মানবসৃষ্ট পানির প্রতিবন্ধকতা।
উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার তিনটি আলাদা আমন বীজতলা এখন পানিতে নিমজ্জিত। ২/৩ দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে তা নষ্ট হয়ে যাবে।”
পৌরসভার গোমারবাড়ি গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, “যেভাবে ভারতের দিক থেকে আসা
পানি প্রবাহিত হচ্ছে তাতে ভয়ে আছি গত বছরের মতো হঠাৎ ঘরে পানি উঠে যায় কি
না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, “বন্যার আশঙ্কায়
পানি প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গত মাসেই তিনটি খাল খনন ও পরিস্কার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি।”