প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৯ পিএম

মেঘনা থানা পুলিশের সহায়তায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার শারমীন।
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা মধ্যপাড়ার একটি পুরোনো সেতুর নীচ দিয়ে বালু বোঝাই বাল্কহেড চলাচলের সময় আটকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভারী নৌযান চলাচলের ফলে সেতুটির কয়েকটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
আজ বুধবার (৯ জুলাই) সকালে ফের এ ধরনের একটি বাল্কহেড আটকে গেলে তা স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাল্কহেডটি জব্দ করেন এবং তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ সঙ্গে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় সম্ভব হয়নি। তবে, বিকালে বাল্কহেড মালিক নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেন। মেঘনা থানা পুলিশের সহায়তায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার শারমীন।
জানা যায়, অভিযুক্ত সাগর হোসেনকে সরকারি স্থাপনায় ক্ষতিসাধনের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাকে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়।
সাগরের ভাষ্য অনুযায়ী, “বাল্কহেডটি নরসিংদীর মরিচাঘাট এলাকা থেকে মেঘনার শিবনগর কবরস্থানের দিকে যাচ্ছিল। প্রায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটির নিচ দিয়ে চলাচলের সময় বাল্কহেডটি আটকে পড়ে, এতে সেতুর নিচের অংশে আরো ক্ষতি হয়।”
ভাওরখোলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এই ব্রিজের পিলার আগে থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে এর নীচ দিয়ে ইট, বালু ও সিমেন্ট বোঝাই ট্রলার চলাচল করে আসছে। একাধিকবার ধাক্কায় পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে বর্তমানে সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।”
বাসিন্দারা জানান, সেতুটি সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এবং ব্রিজের নীচ দিয়ে সকল ধরনের ভারী ট্রলার ও বাল্কহেড চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে লুৎফুন নাহার শারমীন স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “সরকারি স্থাপনার ক্ষতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করে বারবার সেতুর নীচ দিয়ে ভারী যান চলাচল চলতে পারে না। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছি এবং ভবিষ্যতে এই ব্রিজের নীচ দিয়ে যে কোনো বড় ধরনের মালবাহী নৌযান চলাচল করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”