প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫, ৭:৪৯ পিএম আপডেট: ০৮.০৭.২০২৫ ৯:৪১ PM

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মোহনীয় স্থান ‘নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত’। এই সৈকতের একদিকে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ, আর অন্যদিকে বয়ে চলেছে পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী। কেওড়া গাছের শ্বাসমূল, আঁকাবাঁকা সরু নালা আর জোয়ারের ঢেউ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অনন্য পরিবেশ। বিকেলের রোদে ঘাসে বসে, সাগরে পা ভিজিয়ে লাল কাঁকড়ার দৌড় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায় চুপচাপ। যেন এক কল্পনার জগৎ।
নিদ্রারচর সৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে আরেক মনোরম স্থান ‘শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত’। আর দক্ষিণে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি (ফাতরার বন) ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সোনাকাটা ইকোপার্ক। শুভসন্ধ্যা সৈকতটি তিন নদীর মোহনায় প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন এক সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট।
শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতঃ
শুভসন্ধ্যা একটি সমুদ্র সৈকতের নাম। সমুদ্রের কোল ঘেঁষা তালতলীর নিশান-বাড়িয়া ইউনিয়নের নল বুনিয়ায় অবস্থিত এই শুভসন্ধ্যা সৈকতটি। বরগুনার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলিত জলমোহনায় এই সৈকতটি দাঁড়িয়ে আছে যৌবনা রূপ নিয়ে। এই বেলাভূমিটি প্রায় চার কিলোমিটার লম্বা এলাকা জুড়ে বিস্মৃত। তালতলী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে সোনাকাটা ইকোপার্ক সংলগ্ন নলবুনিয়ার এই চরটি এখন অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা।
সোনাকাটা ইকোপার্ক, সমুদ্রের দক্ষিণা হাওয়া আর ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্যে ঘেরা টেংরাগিরি ইকোপার্ক পর্যটকদের অন্যতম পছন্দ। ২০১০ সালে সরকারি ইকো ট্যুরিজম পরিকল্পনায় সজ্জিত হয়ে জায়গাটি দেশি-বিদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।
রাখাইন পল্লী, তালতলীতে ছড়িয়ে থাকা ১৩টি রাখাইন পল্লীতে প্রায় ২ হাজার আদিবাসী বসবাস করেন। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা এখানকার ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি বৈচিত্র্য।
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান বলেন, ‘নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত’ সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য পর্যটকরে সহজেই আকর্ষণ করতে সক্ষম। এখানের পর্যটন স্পটগুলোতে অবকাঠামো উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, ‘নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এছাড়াও সবগুলো পর্যটন স্পটে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’
কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে তালতলী উপজেলা হয়ে নিদ্রা সৈকতে যাওয়া যায়। নৌপথে বরগুনা বা আমতলীর লঞ্চে এসে ভাড়া গাড়ি বা মোটরসাইকেলে তালতলী হয়ে সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত ‘নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত’ পৌঁছানো সম্ভব। তালতলী শহরের আবাসিক হোটেল ও জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় রাতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ‘জল তরনী’ তাবু ঘরের তাবুতে থাকা খাওয়া ব্যবস্থা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ