
দীর্ঘ মেয়াদি জলাবদ্ধতায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কার্পেটিং রাস্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতার শংকরদানা সরকারি খাস খালের ৯টি স্থানে বাঁধ ও নেট-পাটা দিয়ে লবণ পানির মাছ চাষ করায় মৌসুমের শুরুতেই পুর্বের ন্যায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদি জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কার্পেটিং রাস্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন, বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম প্রায় ৩ কি. মি. দৈর্ঘ্যের সরকারি খাস খালটি বন্দোবস্ত নিয়ে অন্তত ৯টি খণ্ডে পৃথক বাঁধসহ নেট-পাটা দিয়ে লবণ পানির মাছ চাষ করার ফলে প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সেখানকার ঘরবাড়ি, ফসলি ক্ষেত, রাস্তাঘাট তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এ বছরও সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে এসব বাঁধসহ নেট-পাটা অপসারণ করে সেখানকার ৩ গ্রামের জলাবদ্ধতার নিরসন ও নির্মাণাধীন ৬ কোটি টাকার সরকারি কার্পেটিংয়ের রাস্তাটি রক্ষার দাবি করেছেন।
তারা আরো জানান, উপজেলার লতা ইউনিয়নের হাঁড়িয়া ওয়াপদা রাস্তা হতে হাঁড়িয়া খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কি. মি. দৈর্ঘ্যের শংকরদানা খাস খালের অবস্থান। সেখানকার শংকরদানা, হাড়িয়া এবং সচিয়ারবন্দসহ বিস্তির্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এ খাস খাল। বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন খালটির বন্দোবস্ত নিয়ে অনুরূপ খণ্ড খণ্ড করে খালের মধ্যে বাঁধসহ নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ করেছিল।
উল্লেখ্য, খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা ব্যক্তিরা হলেন, স্থানীয় ক্লিনটন বিশ্বাস, পঙ্কজ কুমার, দীপঙ্কর, বাবু লাল বিশ্বাস, বরুণ বিশ্বাস, স্বজল, সমীর কুমার মণ্ডল, অসীম কুমার সরকার ও সত্যনন্দ রায় প্রমুখ।
এলাকাবাসি আরো জানান, প্রতিবার খালের ইজারা নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে মাছ চাষ করার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন যাবৎ জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয় তাদের। এসময় বসত-বাড়িসহ রাস্তাঘাট ও ফসলের ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “খালে মাছ চাষে কারো আপত্তি নেই, তবে বর্ষা মৌসুমে খাস খাল দিয়ে সুষ্ঠু পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।”
মমতা সরকার ও ঝর্ণা শীলরা জানান, “গত ক’দিনের টানা বর্ষায় তাদের বসতবাড়ির উঠানে পানি উঠে গেছে এবং নির্মাণাধীন একমাত্র চলাচল রাস্তাটিও তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”
সত্যরঞ্জন সরকার বলেন, “ভোগান্তি লাঘব করতে হলে এসব বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ জরুরি।”
এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুনীল কুমার মন্ডল জানান, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে। এ রাস্তাটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। তিনি পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যক্তি কিংবা সরকারি উদ্যোগ নিলে তিনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।”
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী স্বজল বিশ্বাস জানান, নির্মাণাধীন কার্পেটিং (রাস্তা) টেকসই বা রক্ষা করতে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিকল্প নেই। ক’দিনের ভারি বর্ষায় নাজুক অবস্থার জন্য তিনি খালের বাঁধসহ নেট-পাটাকে দায়ী করে সুষ্ঠু পানি সরবরাহে তা অপসারণের দাবি করেন।