প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৯:৫৬ AM

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে কবর খোঁড়াসহ দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর জানা গেল, ‘মৃত’ ব্যক্তি জীবিত আছেন। এমন ঘটনার পর পুরো এলাকা জুড়ে আলোড়ন ও হতবাক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রবিবার (২২ জুন) সকালে, সুলতানপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম (এতিছানগর) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা যান। ফেসবুকের একটি পোস্ট দেখে বাবুরবাজার এলাকার বাবুল আহমদ মরদেহটি তার মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই শিহাব উদ্দিন সাবু মিয়ার ভেবে শনাক্ত করেন। পরে তিনি লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়।
কবর খোঁড়া হয়, জানাজা প্রস্তুত হয়- ঠিক তখনই খবর আসে, সাবু মিয়া জীবিত এবং গঙ্গাজল বাজারে অবস্থান করছেন। এই খবর শুনেই দাফনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
বাবুল আহমদ মরদেহটি ফিরিয়ে দিতে চাইলেও, স্থানীয় জামায়াতপন্থী যুবনেতা মিজানুর রহমানের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত লাশটি ধর্মীয় নিয়মে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান জানান, ‘দুই দিন আগে পৌরসভার শেওলা রাস্তার মুখে পা ভাঙা অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। আমরা মানবিক কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে তিনি মারা যান। বাবুল আহমদ ও তার স্বজনরা এসে মরদেহ তাদের আত্মীয় দাবি করে নিয়ে যান। পরে জানানো হয়, এটি ভুল পরিচয় ছিল। ওসি সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা লাশ দাফন করি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী আমরা লাশ সিলেটে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে কিছু লোক আত্মীয় পরিচয়ে এসে লাশ নিয়ে যান। এখন শুনছি, মৃত ব্যক্তি তাদের কেউ নন।’
এদিকে, জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয়ের ছিলেন। তার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার আগেই লোকজন লাশ নিয়ে যায়। পরে যে ব্যক্তি জীবিত পাওয়া গেছে, সেই তথ্য আমাদের জানা নেই।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম