দেশ গঠনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: ড. সি আর আবরার

বর্তমানে দেশে নানা দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা দিলেও এ সময়টিকে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে বের হয়ে প্রজার অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আমাদের মুক্ত করেছে। তবে এ অর্জনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম রয়েছে।’
মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফপিএবির সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান।
ড. আবরার বলেন, ‘দেশ গঠনের এ সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু এসব খাতে আমাদের নীতিগুলো দুর্বল। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শক্তিশালী নীতিও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না।’ তিনি দুর্বল নীতির সংস্কার ও কার্যকর নীতির বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সরকারকে শিক্ষা খাতে অনিয়মের জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দের নামে লুটপাট করেছে। এমনকি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বর্তমানে ওই ধরনের বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ হয়েছে।”
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “দেশে সিজারের হার ১০ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটি উদ্যোক্তাদের অনৈতিকতার ফল। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য ডাক্তারদের সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হস্তক্ষেপ করলে সবাই সমালোচনা করে। অথচ স্বাস্থ্যসেবা খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা করা মূলত চিকিৎসক সমাজেরই দায়িত্ব।’
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন—পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. হালিদা হানুম আক্তারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও এফপিএবির কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এফপিএবি বর্তমানে ২৩টি জেলায় ২১টি পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক, ৭২টি ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ২১টি যুববান্ধব ক্লিনিকসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন, যাদের ৫৩ শতাংশই যুব জনগোষ্ঠী।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ