প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ২:২৯ পিএম

জামালপুর মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি বিকল ও চরম জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্টাফের অভাব, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি রয়েছে অচল অবস্থায়। সেজন্য চরম দুর্ভোগে পড়ছেন প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত রোগী।
উল্লেখ্য, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪’শ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। অথচ ১০টি অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি গত ছয়মাস থেকে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে গর্ভবতী নারীরা বাইরে থেকে চড়া দামে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া সময়মতো এক্সরে ফিল্ম সরবরাহ না থাকায় এক্সরে মেশিনটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অপারেশন থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় সার্জন এবং ওটি বয়ের অভাবে তা বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর থাকলেও তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেটিও অচল। বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীরা গরমে কষ্ট পান, ওষুধ ও খাবার খাওয়ার সময় দেখা দেয় সমস্যা।
এছাড়িাও, হাসপাতালে নেই কোনো রেডিওলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার, মেডিসিন, চর্ম কিংবা চক্ষু কনসালটেন্ট। এমনকি একজন চিকিৎসা সহকারী বা কম্পাউন্ডারও নেই। পরিচ্ছন্নকর্মীর পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র দুইজন, আর অফিস সহকারীর চারটি পদের বিপরীতে কাজ করছেন কেবল একজন। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন কর্মী। নেই কোনো সিসি ক্যামেরা।
প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে রোগীরা ঠিকমতো সেবা না পেয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পড়েন নিরাপত্তাহীনতায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী মো. রফিকুল হক বলেন, “জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি বিকল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”