প্রকাশ: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ নেওয়ার চেষ্টাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহে গেলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
সোমবার (১৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১০ জন ত্রাণপ্রার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। হতাহতদের অনেককে রাফার রেড ক্রস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগের দিন, রোববার, দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন নিহত হন। গাজা উত্তরের বেইত লাহিয়া শহরে দলবদ্ধভাবে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে আরও সাতজনকে হত্যা করা হয়।
এছাড়া মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন আটজন। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, সেখানে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে আলজাজিরা আরও জানায়, নেটজারিম করিডোরের কাছে একটি জিএইচএফ কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি গুলিতে তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে, যারা পরিবার-পরিজনের জন্য খাবার সংগ্রহে বেরিয়েছিলেন।
মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকা থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা তারেক আবু আজ্জুম জানান, স্থানীয়রা বলেছেন— কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ আল-মাসরি বলেন, “তাদের (ফিলিস্তিনিদের) খাবারের লোভ দেখিয়ে ত্রাণকেন্দ্রে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তারপরই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। এটা ছিল একটা ফাঁদ।”
এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর