
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে- এমন অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। জরুরি বিভাগে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ জুন) সকাল ১০ টায় সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসার জন্য আসা বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের প্রতি।
দাঁতভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছে না- জানতাম না। আমার বাচ্চাকে পক্স হয়েছে, খুব কষ্ট পাচ্ছে। জরুরি বিভাগে গেলে ডা. আরিফুজ্জামান কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বলেন বাইরের ডায়াগনস্টিকে যান। আমার তো সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।’
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুতিরপাড় গ্রামের আব্দুল জলিলও। তিনি বলেন, ‘শুধু গুরুতর রোগীদের দেখা হচ্ছে। আমরা যারা সাধারণ সমস্যা নিয়ে আসি, তারা সেবা পাচ্ছি না।’
জানা গেছে, ১০ জুন থেকে এই পরিস্থিতি চলমান। অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের পর থেকে অধিকাংশ চিকিৎসক হাসপাতালে না থেকে উপজেলা গেটের আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করেন। ফলে হাসপাতালে সাধারণ রোগী চিকিৎসা পেলে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী কমে যায়, এতে আর্থিক লাভে ব্যাঘাত ঘটে- এই কারণেই সাধারণ রোগীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জানান, আমি বর্তমানে বাইরে আছি। রোগী ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত দেওয়া অনুচিত। আমি এ বিষয়ে এখনই কথা বলছি।’
অন্যদিকে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ভিড় এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় কিছু সাধারণ রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে রোববার (১৫ জুন) থেকে সীমিত পরিসরে সব রোগীকেই আবারও চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সামাদ।
উল্লেখ্য, রৌমারী উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। এই এলাকায় ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম