
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার কুটিরহাট এলাকার মোঃ সজীব এখন নার্সারি জগতের একটি পরিচিত নাম। তার উদ্যোগ, শ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে গড়েছে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তায়। 'বনলতা নার্সারি' নামে শুরু করা তার উদ্যোগ এখন শুধু সোনাগাজী নয়, পুরো ফেনী জেলাতেই সুনাম কুড়িয়েছে।
সজীবের নার্সারি যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৫ বছর আগে, তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুর করিমের হাত ধরে। বাড়ির উঠানে ও বাগানে ছোট পরিসরে গাছের চারা তৈরি করে শুরু করেছিলেন তারা। প্রথমদিকে হাটবাজারে ভ্যানগাড়িতে করে চারা বিক্রি করতেন। পরে মাত্র ৬ শতক জমি ইজারা নিয়ে নার্সারির পরিসর বাড়ান। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট নার্সারি আজ ১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে তিনি চারটি নার্সারির মালিক, যেগুলো কুটিরহাট মাদ্রাসা, কালীবাড়ি গার্লস স্কুল এবং নিজ বাড়ির আশপাশে অবস্থিত।
বনলতা নার্সারিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে শাখা কলম, গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম এবং টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ফলজ, বনজ, ভেষজ, শোভাবর্ধক ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। শতাধিক প্রজাতির ফুলের গাছের চারা রয়েছে তার নার্সারিতে, রয়েছে সবজি ও মসলাজাতীয় উদ্ভিদের চারাও।
এখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে বৃক্ষপ্রেমীরা আসেন তার নার্সারিতে। ফুল-ফলের চারা সংগ্রহের পাশাপাশি সজীবের কাছ থেকে পরামর্শ নেন নার্সারি ব্যবসা, গাছের যত্ন এবং রোগবালাই দমন সম্পর্কে।
সজীব জানান, নার্সারির সব কাজ তিনি তার বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন। পরে কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করে তার জ্ঞান ও দক্ষতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে তার নার্সারিতে নারী-পুরুষ মিলে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যারা এখান থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তিনি মনে করেন, নার্সারি শুধু বৃক্ষ উৎপাদনের উৎস নয়, এটি কর্মসংস্থান, পরিবেশ রক্ষা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। অল্প পুঁজি ও সীমিত জায়গায় নার্সারি গড়ে তুলেও বড় সফলতা পাওয়া সম্ভব, যদি সঠিক পরিকল্পনা ও শ্রম থাকে।
সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, “আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পাশে আছি। কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং প্রণোদনা প্রদান করে থাকি। সজীবের মতো উদ্যোক্তারা আমাদের গর্ব।”
চর মজলিশপুর ইউনিয়নের এই উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কৃষি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার নার্সারি ‘বনলতা’ আজ শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক — যেখানে কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা ও আর্থিক সফলতা মিলেছে একসঙ্গে।
মোঃ সজীবের মতো উদ্যোক্তারা প্রমাণ করছেন—বাংলাদেশের মাটিতে, পরিশ্রম ও সাহস থাকলে, সাফল্যও সম্ভব। আর নার্সারি হতে পারে সেই সেতুবন্ধন, যা ব্যক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের কৃষি ও পরিবেশকেও এগিয়ে নিয়ে যায়।