
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোতো শহরে এক নারীর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০টি মৃত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। যিনি স্থানীয় প্রাণীকল্যাণ সংগঠন অ্যানিম্যাল অ্যাসিস্ট সেনজু'র কর্মী ছিলেন। তবে, বিড়ালগুলোর এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে ওই নারী কর্মীর দায়িত্বহীনতার কারণে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রাণীকল্যাণ সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছে এবং তাদের শাস্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওই বাড়িটি ছিল আবর্জনায় পূর্ণ এবং মল-মূত্রের স্তূপে ভর্তি।
অ্যানিম্যাল অ্যাসিস্ট সেনজু জানিয়েছে, তাদের কর্মী ওই বাড়িতে বহু বিড়াল সংগ্রহ করেছিলেন, তবে সে কোনো অনুমতি ছাড়াই তা করেছেন। একটি বিড়ালকে উদ্ধার করার পর তার শরীরের চামড়া আংশিকভাবে উঠে গেছে এবং পায়ের থাবায় আবর্জনা জমে ছিল, যা দেখে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কাছে এই ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে শোকাবহ মনে হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত বিড়ালের সংখ্যা ১০০টির কাছাকাছি ছিল, তবে কিছু সংবাদমাধ্যমের মতে, এটি আরও বেশি হতে পারে। এখনও পর্যন্ত ১২টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রাণীকল্যাণ সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে জানায়, তারা এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তারা আরো বলেছে, "আমরা কল্পনাও করতে পারি না, বিড়ালগুলোর মৃত্যুর আগের যন্ত্রণা কতটা অমানবিক ছিল।"
এছাড়া, ওই নারী কর্মীকে ভবিষ্যতে কোনো প্রাণী পালন বা উদ্ধার করার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে, কুমামোতো শহরের প্রাণী সুরক্ষা কর্মকর্তারা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রাণীদের পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। প্রাণী সুরক্ষা সংস্থাগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা এবং দায়িত্ববোধের জায়গায় শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে যখন এমন ধরনের অবহেলা এবং নিষ্ঠুরতা সামনে আসে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রাণীকল্যাণ কাজের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা এবং মনোযোগ প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর