
ভৈরব উপজেলা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতি দিন সাড়ে ৮শ’র বেশি রোগী ভিড় জমায়, কিন্তু মাত্র চারজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের রুমের দরজায় তালা ঝুলছে, ফলে বহু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরছেন।
সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও চেম্বারে ভীড় থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসকের দেখা মেলে না। হাসপাতালের আধুনিক জেনারেটর থাকলেও অপারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। রোগীদের জন্য থাকা দুইটি লিফটও ব্যবহার করা হয় না, ফলে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের উপরে ওঠা নামা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৬৮ সালে ১০ শয্যা দিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতাল এখন ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল নিয়োগ হয়নি।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘কাগজে-কলমে ২৯ জন চিকিৎসক থাকলেও সরেজমিনে মাত্র ৪ জন কাজ করছেন। বাকিরা অন্যত্র কর্মরত।’
তিনি আরও জানান, জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসা কার্যক্রম থেমে যায়।
ভোগান্তিতে পড়া রোগীরা অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা যথাযথ নয়, এবং হাসপাতালের অনেক মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে।
আহত রোগী আজমাল মিয়া বলেন, ‘আমি দুই দিন ধরে এখানে এসেছি, কিন্তু কোনো ডাক্তার পাইনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর একজন ডাক্তারের সাথে দেখা হলে তিনি আমাকে একদিন পর আসতে বলেছেন।’
অন্য রোগী চাঁন মিয়া জানান, এখানে এসে ঘণ্টা ঘুরেও কোনো ডাক্তার দেখতে পাচ্ছি না, অধিকাংশ চেম্বারে তালা ঝুলছে।’
অন্যদিকে ভর্তি রোগী আফজাল হোসেন বলেন, ‘ওয়ার্ডে ময়লা জমে থাকে, সুইপার সময়মত আসে না। এখানে সুস্থ হওয়া সম্ভব না, হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ।’
চারতলা ওয়ার্ডের রোগী ইয়ামিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়, অথচ এত টাকা ব্যয় করে জেনারেটর কেনা হয়েছে।’
ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় নির্মিত চারটি আধুনিক ভবন ও ১০০ শয্যা সত্ত্বেও জনবল ও সেবার অভাবে হাসপাতাল কার্যত অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম