
সমাজে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত এতিমদের কল্যাণে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দাতা সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের মুক্ত হস্তে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
শুক্রবার (৩০ মে) রাজধানীর আদাবর থানায় জামায়াত আয়োজিত এতিমদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমীর আল আমীন সবুজের সভাপতিত্বে এবং সেক্রটারি আশরাফুজ্জামান মিঠুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ড. রেজাউল করিম বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এতিমদের প্রতি সদাচারণ ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কালামে হাকীমে তাদের অধিকার, মর্যাদা এবং পুরস্কারের কথা বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কালামের সূরা বাকারাহর ২২০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমার কাছে তারা জিজ্ঞেস করে, এতিম সংক্রান্ত বিধান। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেওয়া উত্তম। আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই। বস্তুত অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের ওপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রাজ্ঞ।’
এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রত্যার্পণ সম্পর্কে সূরা আন নিসার ২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। মন্দ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটি বড়ই মন্দ কাজ।’
এ সময় এতিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনের সকল স্তরের জনশক্তিকে সামর্থ অনুযায়ী কাজ করার আহবান জানান রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, ইসলাম একটি কালজয়ী ও শাস্বত জীবনাদর্শ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন অন্য সব দ্বীনের ওপর দ্বীনে হক্ব তথা ইসলামকে বিজয়ী করার উদ্দ্যেশে। মূলত, জামায়াতে ইসলামী এদেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। এতে করে নিশ্চিত হবে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার।
সততা, যোগ্যতা ও তাক্বওয়া অনুযায়ী সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আদর্শকে সামনে রেখে প্রদান করা হবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। যেখানে ধর্ম, মত ও পথকে নয়, বরং প্রাধান্য দেওয়া হবে জাতির প্রতি দায়বদ্ধ যোগ্য মানুষদের। জামায়াত সকল শ্রেণির নাগরিকের মধ্যে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পারস্পারিক আন্তরিকতা প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, পতিত বাকশালী ও ফ্যাসিবাদীরা রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই বিদ্যমান অবস্থায় দেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ভোটাররা যাতে পছন্দের প্রার্থী নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদীরা যাতে নতুন করে মাথাচাঁড়া দিতে না পারে এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি