
দেশের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’দের একজন সুব্রত বাইন। নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর দক্ষিণাংশে অপরাধ জগতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও তিন সহযোগী।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৫ টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়ার সোনার বাংলা রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম সুব্রত বাইন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৭ টায় রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শুটার আরাফাত ও শরীফ ওরফে ড্রাইভার শরীফ।
গ্রেপ্তার হওয়া এই চারজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ঢাকার হাতিরঝিল ও গুলশান এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে সুব্রত বাইনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অস্ত্র সংগ্রহ, জমি দখল এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজির মতো অপরাধে তার সক্রিয়তা ছিল অনেক বছর ধরেই।
নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের অপরাধ জগতে রাজত্ব করতেন সুব্রত বাইন। তিনি ছিলেন ‘সেভেন স্টার’ নামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী দলের প্রধান।
তার পুরো নাম ত্রিমাতি সুব্রত বাইন। ১৯৬৭ সালে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্ম তার। পৈতৃক বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ার জোবারপাড় গ্রামে।
প্রথমে বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন স্কুলে পড়লেও পরে ঢাকায় চলে আসেন। এসএসসি পাস করার পর সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ভর্তি হলেও পড়ালেখা আর হয়নি। এক রাজনৈতিক নেতার হাত ধরে ঢুকে পড়েন অপরাধ জগতে।
১৯৯৩ সালে রাজধানীর মধুবাজারে এক সবজি বিক্রেতাকে খুন করে প্রথম পুলিশের নজরে আসেন। এরপর চাঁদাবাজি, খুন, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপরাধে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর এক নাম।
১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের নেতৃত্ব দেন। এরপর আগারগাঁওয়ে মুরাদ হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়।
সুব্রত বাইন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এক সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় তার জন্মদিনে শীর্ষ নেতারাও হাজির হতেন।
২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় শীর্ষে ছিল তার নাম। এরপর ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।
তিনি কলকাতা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে অপরাধ চালিয়ে গেছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে কলকাতায় গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন।
সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজার এলাকায় তার ‘মহড়া’ চালানোর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে আবার আলোচনায় আসেন। মুখে দাড়ি ও ভিন্ন চেহারার সুব্রতকে অনেকে প্রথমে চিনতেও পারেননি।
অবশেষে সেনা অভিযানে ধরা পড়লেন এই কুখ্যাত অপরাধজগতের ‘তারকা সন্ত্রাসী’।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম