
কুষ্টিয়ায় প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ রবিবার (১১ মে) বিকাল ৩টা পর্যন্ত জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। গত কয়েকদিন ধরেই সারা দেশে চলছে তীব্র তাপদাহ।
অতিরিক্ত গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভ্যান-রিকশাচালক, কৃষক ও দিনমজুররা রোদে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জেলার বড় বাজার এলাকার ভ্যানচালক রহিম খন্দকার বলেন, ‘গরমে ভ্যান চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। মালামাল টানতে গিয়েও শরীর ভেঙে পড়ছে। আয়ও কমে গেছে অনেক।’
এদিকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু রোদের তীব্রতায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
ঝাউদিয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল বিশ্বাস বলেন, ‘তীব্র রোদের কারণে শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই মাঠে নেমেছি। তবে গরমে ধান কাটতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
তাপমাত্রা শুধু দিনে নয়, রাতেও গরম কমছে না। তাই কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকে নদী, পুকুর বা খালে গোসল করতে যাচ্ছেন। শরীর ঠাণ্ডা রাখতে রাস্তার পাশে শরবত খেতেও দেখা যাচ্ছে অনেককে। কুষ্টিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত তিন দিন ধরেই তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রির ওপরে রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মামুন আর রশিদ বলেন, ‘তাপদাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।’
তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ঈমাম বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাইরে বের হলে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করতে হবে। প্রচুর পানি, লেবুর শরবত, স্যালাইন খেতে হবে এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।’
কুষ্টিয়ার মানুষ এখন স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় আছে। ততদিন পর্যন্ত সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম