প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৯:১১ AM

শিশুদের নিয়ে গঠিত মায়ের প্রতিষ্ঠান ‘সুরভী’তে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে ভালোবাসা বিনিময় করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান। আজ রাতে ডা. জোবাইদা রহমান ধানমন্ডির ‘মাহবুব ভবন’-এ পৌঁছালে তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু’র প্রতিষ্ঠিত ‘সুরভী’র শিশুরা তাকে স্বাগত জানায়।
সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৭৯ সালে ‘সুরভী’ প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।
ধানমন্ডির মাহবুব ভবনের গেটে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল একঝাঁক শিশু। হাতে ফুলের তোড়া, মুখে হাসি আর চোখে ছিল অপেক্ষার উত্তেজনা এবং মনে ছিল একটি প্রশ্ন—কখন আসবেন তিনি!
মঙ্গলবার (৬ মে) রাত প্রায় দশটার দিকে যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের গাড়িটি ভবনের সামনে এসে থামল, তখন ‘সুরভী’র শিশুরা বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ল।
স্বাগতম, আপা!—চারপাশের এই সম্মিলিত স্লোগান যেন দীর্ঘ সতেরো বছরের অপেক্ষার নীরবতাকে ভেঙে দিয়ে স্পন্দিত হয়ে উঠল।
মাতৃভূমিতে জোবাইদা রহমানের প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ ৬ হাজার ২০০ দিন পর নিজ দেশের মাটিতে পা রাখলেন জোবাইদা রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সাথে ঢাকা ছেড়েছিলেন।
এরপর দীর্ঘ সময় কেটেছে লন্ডনে, রাষ্ট্রীয় মামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে। কিন্তু আজ, অসুস্থ মায়ের টানে সব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ফিরে এসেছেন প্রিয় শহরে।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে পৌঁছান জোবাইদা রহমান। এরপর তার প্রথম গন্তব্য ছিল পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতাল। সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে যখন তিনি মায়ের কেবিনে প্রবেশ করেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মুহূর্তে দুই প্রজন্মের ভালোবাসা যেন নীরব ভাষায় একে অপরের হৃদয়ে মিশে গেল। ‘মা, আমি ফিরেছি’—এই ছোট্ট উচ্চারণে যেন ভেসে গেল দীর্ঘ বিরহের বেদনা।
স্বদেশ প্রতিনিদ/কেএইচ