
দীর্ঘ দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে রাখা ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই এখন ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি ভোলাবাসীর গর্ব এবং দেশীয় খাদ্যঐতিহ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হাত থেকে, ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান এই জিআই সনদ গ্রহণ করেন।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দইয়ের জন্য জিআই স্বীকৃতির আবেদন করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এটি জিআই-৫৫ নম্বরে তালিকাভুক্ত হয়।
ভোলার মানুষ মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি করে এক ধরনের ঘন, কাঁচা টক দই- যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মইষা দই’ নামে। এটি বিয়ে, উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। চিড়া, মুড়ি, চিনি বা গুড় দিয়ে খাওয়া হয় এই দই। গরমের দিনে দই দিয়ে বানানো ঘোল অনেক জনপ্রিয় পানীয়।
ভোলাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অতিথি আপ্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ মহিষের দুধের টক দই। স্থানীয় লোকজন খাবারের শেষে ভাতের সঙ্গে চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে এই দই খায়। মহিষের দই চিড়া, মুড়ি ও চিনি মিশিয়েও খাওয়া হয়। পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজের দইয়ের হাঁড়ি ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ ও ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। গরমের মৌসুমে দইয়ের সঙ্গে হালকা পানি ও চিনি মিশিয়ে ঘোল তৈরি করেও বিক্রি করা হয় দোকানে দোকানে।
ভোলা জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী জানান, বিষয়টি ভোলাবাসীর জন্য আনন্দের। এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ভোলায় মহিষ পালনকারী ও দই উৎপাদনকারীদের জন্য এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা এ স্বীকৃতির জন্য কাজ করেছে তাদের প্রতি ভোলাবাসী চিরকৃতজ্ঞ। তবে এটিকে আরো ব্যাপকহারে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রাণী সম্পদ ও জেলা প্রশাসন কাজ করতে হবে। যাতে করে এটি নির্ভেজালভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ এটি ভোলার মানুষের শত বছরের ঐতিহ্য এটিকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদেরকেই।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দইয়ের যে স্বীকৃতি সেটি অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই ভোলা ঐতিহ্য। এটি অন্য জেলার হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করে এটি ফিরে পেয়েছে। জিআই-৫৫ নম্বরে এটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। ভোলাবাসী এটি নিয়ে গর্বিত। এর মাধ্যমে এটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি মিলেছে।’
ভোলা সুজন সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু স্বীকৃতি নয়, ভোলার দই উৎপাদনকারীদের জন্য নতুন সুযোগও। তবে দইয়ের গুণগত মান ঠিক রেখে এর বাজারজাতকরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কাজ করতে হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম