প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১২ পিএম আপডেট: ২৭.০৪.২০২৫ ৫:১৯ PM

আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশ নেন।
বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় এবং সাধারণ—দুই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর অর্জন করেও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে ভর্তি হতে পারছেন না। অথচ সাধারণ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পেয়ে ভালো বিষয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বক্তারা এই বৈষম্যকে ‘শিক্ষাক্ষেত্রে চরম অন্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাদ্রাসাগুলোর প্রতি অবহেলা বরাবরই বিদ্যমান। দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৫টি হলেও একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকেও এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। একইভাবে ৬২৮টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো সরকারি দাখিল মাদ্রাসা নেই। ৬৩টি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীতে কোনো সরকারি দাখিল অ্যান্ড আলিম মাদ্রাসা নেই। ৫৪টি সরকারি কলেজের বিপরীতে সরকারি আলিম মাদ্রাসার সংখ্যা শূন্য। ৪৪৬টি সরকারি ডিগ্রি (পাস ও অনার্স) কলেজ থাকলেও একটি সরকারি ফাজিল মাদ্রাসাও নেই। এছাড়া সরকারি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কলেজের সংখ্যা ১৯৮টি হলেও মাত্র ৩টি কামিল মাদ্রাসাকে সরকারি করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে জাতীয়করণ প্রক্রিয়া চললেও মাদ্রাসা শিক্ষা আজও রাষ্ট্রীয় অবহেলার শিকার। বিষয়টি তারা চরম বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, "বৈষম্য কাকে বলে, এটাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।"
মানববন্ধনে বক্তারা আরও জানান, আলিয়া মাদ্রাসায় অনার্স স্তরের শিক্ষা চালু করা হলেও নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে প্রতি বিভাগে অন্তত ১৬ জন অনার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন পর্যন্ত একজনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞান ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনার্স পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চতর গবেষণা সেল গঠন, উত্তরপত্রের নিরপেক্ষ ও সঠিক মূল্যায়ন, সেশনজট নিরসন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালুর দাবিও উত্থাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষায় তদারকি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর