বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
৮ মাস তালাবদ্ধ বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর জাদুঘর, স্মৃতিরক্ষায় নেই উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:১৬ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৫ ৯:৩৭ PM

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত জাদুঘরটি দীর্ঘ প্রায় আট মাস তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী একজন বীর সন্তানের স্মৃতিসম্ভার যে অবস্থায় আছে, তা দেখে হতবাক না হয়ে উপায় নেই।

২০০৭ সালে শুরু হওয়া জাদুঘরের কাজটি ১ বছর পর ২০০৮ সালের ২০ মে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মা সাফিয়া খাতুন জীবিত ছিলেন, কিন্তু একই বছরের ১২ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের চাচা সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার। তিনি মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর ছেলে সালাউদ্দিন প্রায় আড়াই বছর বিনা পারিশ্রমিকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।

সালাউদ্দিনের সরকারি চাকরির আশায় বহুবার বরিশাল জেলা পরিষদে গিয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই, কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি চলে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কবর অবস্থিত। সেখান থেকে ৪০ দিন তাবলীগ জামাতে থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফিরে এসে দেখতে পান, জাদুঘরের দরজায় তালা ঝুলছে।

তালাবদ্ধের কারণ জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেন, 'আর কতদিন এইভাবে আমার জীবন চলবে?' এরপর তিনি মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মনজুর রহমান বাচ্চুকে সাথে নিয়ে আবার জেলা পরিষদে যান। সেসময় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কিছুটা সহানুভূতিশীল আচরণ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। এরপর তারা বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, একজন যুগ্ম সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনার অফিসে গিয়ে আবেদন করেন।

সেখানে তাদের জানানো হয়, 'আপনারা পারলে লোক রেখে জাদুঘর চালু রাখুন, না পারলে সেটা তালাবদ্ধ থাকুক।' এমন এক কথায় হতাশ হন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় জাদুঘরের কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবির মুখে ঈদের সময়টা কিছুদের জন্য জাদুঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে, কারণ অনেকে ভ্রমণে এসে ফিরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এখনো সেখানে নেই কোনো কেয়ারটেকার, নেই কোনো তদারকি কিংবা তহবিল।

এ জাদুঘরের বাইরে পুরোনো গাছের শুকনো পাতায় ছেয়ে আছে পুরো আঙিনা, দেয়ালের পাশে থাকা গ্রিলগুলো মাটিতে পড়ে আছে ভাঙা অবস্থায়। সব মিলিয়ে চিত্রটি যেন এক হতাশাজনক স্মারকস্থল।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মোহাম্মদ মনজুর রহমান বাচ্চু বলেন, 'আমি বা আমরা ভাইয়ের সম্মান বা বীরের পরিবারের যে সম্মান থাকা উচিত, তা পাই না। এটা কষ্টের। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, আমাদের এলাকায় নদীভাঙনের ভয়াবহ অবস্থা চলছে। সেটি নিয়েও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।'

তার কাছে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সাথে ছোটবেলার কোনো স্মৃতি মনে পড়ে কিনা, সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, '১৯৬৯ সালের কথা। আমি তখন নবম শ্রেণিতে পড়ি। ভাই তখন পাকিস্তানে রিসার্চ অব ইঞ্জিনিয়ার সেন্টারে অফিসার্স ব্যাসিক কোর্স করছিলেন। ছুটিতে এসে আমাকে বরিশাল নিয়ে যান। চকবাজার থেকে একজোড়া সেন্ডেল, পায়জামার কাপড় আর পাঞ্জাবির কাপড় কিনে দেন। ছোট খালার বাড়ি, মামার বাড়ি হয়ে আমরা এক নৈশভোজে যাই। তারপরের দিন সকালে স্টিমার ঘাটে ভাইকে বিদায় দিতে যাই। মা আর আমি যখন তাকে এগিয়ে দিচ্ছিলাম, ভাই পেছনে তাকিয়ে ছিলেন। সেটাই ছিল তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা।'

বীরশ্রেষ্ঠের বসতভিটা আজ জরাজীর্ণ। বাড়িটির ইটের গাঁথুনি থাকলেও, নেই কোনো সিমেন্টের আস্তরণ। ভেঙে গেছে দরজাগুলো, পড়ে আছে পুরোনো আসবাব। আজ সেখানে আর কেউ থাকে না।

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের পিতা মরহুম আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও মাতা মোসা. সাফিয়া খাতুন শায়িত আছেন পারিবারিক কবরস্থানে, মসজিদের পাশে।

বীরের দাদার নাম ছিল রহিম হাওলাদার। তাঁদের গ্রামের নাম ‘রহিমগঞ্জ’ হলেও ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন’।

কিন্তু নাম পরিবর্তন করলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত স্থাপনা যদি এত অবহেলায় পড়ে থাকে, তবে অন্যান্য স্মৃতি বা শহীদদের বিষয়ে আমাদের মনোভাব কি হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা কেবল শোক দিবস ও ফুলে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, এর জন্য দরকার যথাযথ উদ্যোগ ও সরকারিভাবে সকলের নজরদারি।

স্বদেশ প্রতিদিন/এএএম





Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close