
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরীমণির এক বছরের মেয়েকে খাবার খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার ঢাকার ভাটারা থানায় একটি জিডি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরীমনি বলেন, ওই তরুণী তার গৃহকর্মী নয়। অসহায়ত্বের কথা বলে কাজের জন্য এসেছিল। কাজ করার সক্ষমতা না থাকায় মাসখানেক পর তাকে বেতন-বোনাসসহ বিদায় জানানো হয়েছে।
নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘আমার সংসার চলে গৃহকর্মীদের ওপরে। তাদের সঙ্গেই আমার সবকিছু। আমি তাদের ‘আপনি’, ‘আন্টি’ ছাড়া কথা বলি না। এত বছর ঢাকা শহরে থাকি, আমার গৃহকর্মী, গাড়িচালক কাউকে বদলাতে হয়নি। কারও পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। চার-পাঁচ দিনের জন্য একজন এসে অভিযোগ করা তো সন্দেহজনক। সে অসহায়ত্ব দেখালো বটে, কিন্তু সে খুব স্মার্ট। নিশ্চয়ই ওর পেছনে কেউ আছে। কারা ওকে আমার বাসায় পাঠিয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। কার কার সঙ্গে ফোনে কথা বলতো, কাকে কাকে ছবি পাঠাতো এসব তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে যাবে।’
অভিনেত্রীর সন্দেহ, ওই তরুণী একজন গুপ্তচর হয়ে থাকতে পারে।
পরীমনি জানান, একটি এজেন্সি মারফত মেয়েটিকে পেয়েছেন তিনি। ওই এজেন্সির অনুরোধে তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিয়েছিলেন।
কিন্তু কয়েকদিন পরই তার ওপর সন্দেহ তৈরি হয় অভিনেত্রীর। কারণ মেয়েটি বেশিরভাগ সময় ফোনে ব্যস্ত থাকে। কোথায় যেন ছবি ও ভিডিও পাঠায়।
এই নায়িকা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়েটা চাকরির জন্য এসেছিল। খুব কান্নাকাটি করলো। বলল, বের করে দিয়েন না, যে কোনো কাজ করে দেব, আমার কেউ নেই, বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে আছি। অন্তত একটা মাস থাকি। আমার দয়া হলো। কিন্তু সে ছিল প্রতিবন্ধী।
কাজ করার সক্ষমতা ওর ছিল না। তবু আমি তাকে বললাম, কাজ করতে হবে না, আমার বাচ্চাদের সঙ্গে খেলবে।’
পরীমনি আরো বলেন, ‘ওর কর্মকান্ডে আমার সন্দেহ হলো। দুইদিন পর পর এ সমস্যা, সে সমস্যা, শুধু টাকা চায়। ভেবেছিলাম, এসেছে যখন একমাস থাকুক। পরে যার মাধ্যমে এসেছে, তাদের জানালাম। ওকে যখনই বিদায় হতে বললাম, কান্নাকাটি শুরু করলো। পরে ১ মাসের বেতন ২০ হাজার টাকা, ঈদের বোনাস, সালামি, নতুন কাপড় দিয়ে বিদায় হতে বললাম। ভারি কিছু তুলতে পারে না, আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারে না। এক মাসও হয়নি, ব্ল্যাকমেইল শুরু করেছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ