
আজ সৌদিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ এবং জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন এলাকাবাসি।
শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে আরব দেশ সমূহে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা হলে চাঁদপুরের এসব গ্রামের ঈদের জামায়াতের সময় সূচি নির্ধারণ করেন স্থানীয়রা।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদের প্রথম জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায়। এই জামায়াতে ঈমামিত করেন পীরজাদা মাওলানা মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী।
এরপর দ্বিতীয় ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধুরী। দরবার শরীফের দুটি ঈদ জামায়াতে আশপাশের গ্রামের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
এছাড়াও সকাল ৯টায় ঈদের বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদে এবং আশাপাশের গ্রামে। এসব জামায়াতগুলোতে দরবারের অনুসারী মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।
দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘শুধুমাত্র সৌদি আরব নয়, কোরআন ও হাদিসের আলোকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আমরা রোজা পালন ও ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকি।’
দরবার শরীফের পীরজাদা পীর ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, ‘আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মাওলানা ইসহাক (রহ.)। ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রথা চালু করেন।’
এছাড়াও মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) এর অনুসারী মুসল্লীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই সাথে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।
যেসব গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে: হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দেওয়ানকান্দি , পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচআনী, লতুরদি, মাথাভাঙ্গা এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলাসহ অর্ধশত গ্রাম।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম