প্রকাশ: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:১১ AM

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব বন্দির বেশিরভাগই অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে আনাদোলু নিউজ এজেন্সি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এই ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। প্যালেস্টানিয়ান প্রিজন সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন গাজা উপত্যকার বাসিন্দা। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজার বন্দিদের মৃত্যুর তথ্য গোপন করছে।
গাজার বন্দি বিষয়ক কমিশন সোমবার জানিয়েছে, গাজার বন্দি মুসাব হানি হানিয়াহও ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন। ৩৫ বছর বয়সী হানিয়াহকে ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আটক করেছিল, এবং তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন।
এদিকে, পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৬৭ সালের পশ্চিম তীর ও গাজা দখলের পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে ২৯৬ ফিলিস্তিনি বন্দি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে অন্তত ১০ হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
গত জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিল। ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া তিন-পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে বন্দি বিনিময়, স্থায়ী শান্তি এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্য রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৪৮,৩৫০ জনে পৌঁছেছে, এবং আরও লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের ফলে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর