
রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা এলাকায় একটি গ্যারেজপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ থেকে ১৮টি গ্যারেজ পুড়ে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যারেজ মালিক সমিতি। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, কারণ তাদের দাবি শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশের গ্যারেজ মালিকদের পিকনিক ছিল তাই কেউই গ্যারেজে উপস্থিত ছিলেন না।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খিলগাঁও তালতলা গ্যারেজপট্টিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুটি ইউনিট ফেরত পাঠানো হয়। পরে ৯টি ইউনিটের আরও প্রচেষ্টায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে আগুন স’মিল থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরে জানা যায়, একটি টায়ারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা পরে গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে থাকা গাড়িগুলিতে আগুন লেগে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়।
গ্যারেজ মালিকরা দাবি করছেন, তারা কাস্টমারের গাড়ি সার্ভিসিংয়ের জন্য রেখেছিলেন এবং অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
গ্যারেজ মালিক মো. মাসুম জানান, "আমরা ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। তবে গতকাল সবাই পিকনিকে ছিল, কেউ গ্যারেজে ছিল না। কীভাবে এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটলো তা আমাদের কাছে প্রশ্নবোধক।" তিনি আরও বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের সময় যে এক দিক থেকে শুরু হয়ে অন্যদিকে ছড়িয়ে গেছে এটা আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।"
গ্যারেজ মালিক মো. মুন্না বলেন, "আমরা গাজীপুরে পিকনিকের জন্য গিয়েছিলাম তবে আগুনের ঘটনা আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস যখন প্রথমে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তখনও আবার আগুন জ্বলে ওঠে। এটা যেন পরিকল্পিত ছিল।"
মো. মুন্না আরও জানান, তাদের গ্যারেজে পাঁচটি গাড়ি ছিল—যেমন প্যারাডো, এক্স করলা, নোয়া ও পিকআপ। এছাড়া গ্যারেজের আধুনিক যন্ত্রপাতিও পুড়ে গেছে। আমার গ্যারেজে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আমরা গাড়ির কাস্টমারদের কী বলবো এই ক্ষতিপূরণ কীভাবে দিব।
গ্যারেজ মালিক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, "গ্যারেজ মালিকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই বড় আকারে। প্রত্যেক গ্যারেজের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার রিকন্ডিশন স্পেয়ার পার্টস ছিল সব পুড়ে গেছে। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্তদের দিকে নজর না দেয়, তবে আমরা জীবনে আর উঠে দাঁড়াতে পারব না।"
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রথমে ৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তবে পরে ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের উৎস ছিল টায়ারের গোডাউন থেকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়িগুলোর সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করে। আগুনে পুড়ে ১৭টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং গ্যারেজ মালিকদের বেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্যারেজ মালিকরা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় প্রশাসনকে তদন্ত করতে হবে এবং আগুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পরিকল্পিত পিকনিকের দিন এ ধরনের ভয়াবহ আগুনের ঘটনা সন্দেহজনক এবং তারা আশা করছেন প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।
তবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যারেজ মালিকরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তায় বসে রয়েছেন এবং তাদের পুনরায় ব্যবসা শুরু করার জন্য সরকারের সহায়তা চাচ্ছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর