
ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন এখন এক গোলাপ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পুরো গ্রামজুড়ে চোখে পড়ছে রঙিন গোলাপের সমাহার। সাদা, গোলাপি, হলুদ, কালো, এমনকি লাল গোলাপের বাহারী গাছগুলো মেঠোপথের দুই পাশের বাগানে ভরে উঠেছে। বসন্তের মিষ্টি রোদের সঙ্গে মৃদু বাতাসে গোলাপের ফুলগুলো যেন দোল খাচ্ছে, আর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সতেজ ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ।
বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রাম দেখতে আসা দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন এক অপূর্ব দৃশ্য। এখানে শুধু গোলাপ নয়, বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছও চোখে পড়ছে। গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, এবং আরও নানা ফুলের দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে। স্থানীয় ফুলের দোকানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়, যেখানে বিক্রি হচ্ছে ফুলের তোড়া, মাথার রিং, কানের দুল, মালা এবং অন্যান্য সুন্দর গয়না। গোলাপ গ্রাম শুধু ফুলের জন্যই পরিচিত নয়, বরং এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত দর্শনার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে তারা বাগানে ছবি তুলে এবং প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে।
এবারের গোলাপের চাষে ফলন বেশ ভালো হয়েছে। সাদুল্লাহপুর এলাকার বাগানমালিক ইমরান হোসেন জানান, অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবারের ফুলগুলো আরও বড় ও সুস্থ। তিনি আশা করছেন, এই বছর ফুলের চাহিদা বেশি থাকবে এবং ভালো দামে বিক্রি হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে এসেছেন শিক্ষক হুমায়ন কবীর যিনি তার পরিবার নিয়ে গোলাপ গ্রাম ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, "গোলাপ গ্রাম এতটাই সুন্দর যে, চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা এখানে ছবির জন্য এসেছি।"
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন জানান, বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগনীবাড়ি, কালিয়াকৈর, কমলাপুরসহ অন্তত ১০-১২টি গ্রামের ৩০৫ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়। এর মধ্যে ২৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয় গোলাপ। চলতি মৌসুমের প্রাকৃতিক পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় গোলাপ গ্রামজুড়ে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। তিনি আশা করছেন, এবছর গোলাপ বিক্রির মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রাম এখন দেশের অন্যতম প্রধান ফুলের উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার ফুলের চাহিদা বাড়ছে, আর স্থানটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে এই অঞ্চলের কৃষি উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আরও ব্যাপক হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর