
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি একসময় গুম হয়ে গোপন কারাগারে আটকে ছিলেন টানা ৮ বছর। বুধবার রাজধানী ঢাকার উত্তরায় র্যাব এবং ডিজিএফআইয়ের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের কাছে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, “এখানে আমাকে আট বছর বন্দি করে রাখা হয়েছিল। দিনের বেলায় চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে রাখতো। রাতের বেলায় পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে বেঁধে রাখা হতো। কেন জানতে চাইলে তারা কিছু বলতো না। নামাজের সময়ও দিতো না। আট বছর ধরে তারা আমাকে নারকীয় অভিজ্ঞতা দিয়েছে।”
আরমান তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “২৪ ঘণ্টা চোখ বেঁধে, হাত বেঁধে বসিয়ে রাখত, উঠতে দিতো না, দাঁড়াতে দিতো না। যখন আমি প্রশ্ন করতাম, তারা বলত, ‘স্যার আসবেন’। চোখ বাঁধা অবস্থায় দেয়ালের দিকে ফিরে বসে থাকতাম, আর বুঝতে পারতাম পেছন থেকে কেউ আসছে। মোবাইলের রিংটোন শুনতে পেতাম, দামি পারফিউমের ঘ্রাণ পেতাম। কিন্তু আমার নাকের মধ্যে প্রস্রাব-পায়খানার গন্ধ চলে আসতো, বুঝতে পারতাম সিনিয়র কেউ পেছন থেকে দেখছে।”
তিনি আরও বলেন, “একদিন আমি ভাবলাম, আমাকে মেরে ফেলবে। তবে ৬ আগস্ট ভোরে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।”
ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের পরিবার অভিযোগ করেছে যে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনী তাকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং আট বছর ধরে তাকে গোপন কারাগারে বন্দি করে রাখে।
এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং এটি দেশের নাগরিকদের জন্য এক বড় সংকেত। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তার দিকে আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আজকের দিনে খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টারা এই ভয়ানক অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং গুম, অমানবিক নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা তৈরি করার একটি বড় উদাহরণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর