আসামী আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী জাইল্লা নজরুল ইসলাম ভুঁইয়ার দুই ভাই জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ সবাই পলাতক

#দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার গ্রেফতার
রাজধানীর খিলক্ষেতে আশিয়ান গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্থানীয় বিএনপি নেতা ও স্বদেশ প্রপার্টিসের সিকিউরিটি গার্ড কাউসার দেওয়ানের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব খিলক্ষেতের বরুয়া দেওয়ান শাহী জামে মসজিদের ইমাম জানাজা পড়ান। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে কাউসার দেওয়ানকে দাফন করা হয়।
খিলক্ষেত থানার বরুয়া ৪৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক নিহত কাউসার দেওয়ানের জানাজায় অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব ড. এম এ কাইয়ুম, উত্তর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এস এম জাহাঙ্গীর, আখতার হোসেন, খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহবায়ক মোবারক হোসেন দেওয়ান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ শতশত মানুষ। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কাউসার দেওয়ানের জন্য এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে স্তব্ধ পরিবার পরিজন আত্বীয় স্বজন এলাকাবাসী ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
এদিকে, আশিয়ান গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় কাউসার দেওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খিলক্ষেত থানায় মামলা করা হয়। মামলা করেন কাউসার দেওয়ানের বোন মোর্শেদা খাতুন। মামলায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, জামাই আনোয়ার, জিহাদ, শাহীন ভুঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ ১৫ জন ছাড়াও অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী জাইল্লা নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া ও তার দুই ভাইসহ অনেকেই পলাতক রয়েছে। যে কোনো সময় পুলিশের হাতে ধরা খেতে পারে এই আসামীরা। ইতোমধ্যে মামলার দুই নম্বর আসামী আনোয়ার হোসেন দেওয়ানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা যায়।
জানা গেছে, গত সোমবার আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া, তার ভাই জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ৩০০ ফিটের পাশে স্বর্ণালী প্রজেক্টে কর্মরত লোকদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দেশিয় অস্ত্র দা ও চাপাতি দিয়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে স্বর্ণালী প্রজেক্টের অনেকেই আহত হয়। এদের মধ্যে সিকিউরিটি গার্ড কাউসার দেওয়ানকে মাথার মধ্যস্থানে, ঘাড়ে ও হাতের বাম পাশে কোপালে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং ঢলে পড়েন। আশিয়ানের সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর অন্য সিকিউরিটি গার্ড ও এলাকাবাসীরা মিলে কাউসারকে এভারকেয়ার হাসপতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ১ ডজনেরও বেশি ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও আশিয়ান সিটির নজরুল, জাহিদুল, সাইফুল আছে বহাল তবিয়তে। ৫ আগষ্টের পর বিএনপির শীর্ষনেতার আশ্রয় পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। গত ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে অবৈধভাবে আশিয়ান সিটির জমি দখল, সীমাহীন প্রতারণা, জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী প্লট ও জমির মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। আশিয়ান সিটির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করে। সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন অন্যতম আয়োজক আনোয়ারা মায়া। মায়ের অনুপস্থিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণা। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ সম্মেলন ছিল আশিয়ান সিটির মালিক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিষয়ে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা আমার মাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছেন। আমি আনোয়ারা মায়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণা, ২০০৯ সালে খিলক্ষেত থানার বড়ুয়া দক্ষিণ পাড়ায় আমাদের এক বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে আশিয়ান সিটি। এই জমির দলিল, নামজারি, খাজনাসহ সকল কাগজপত্র আমার মায়ের নামে। এই জমি নিয়ে বিবাদের জেরে আমার মামাকে তারা হত্যা করেছে। আমার মা আদালতে গেছে তাদের বিরুদ্ধে। আদালত ওই জমির উপর ইনজাংশন দিয়ে বলেছেন, কোনো পক্ষ কিছু করতে পারবে না। তিনি বলেন, বিতর্কিত এই আশিয়ান সিটির মালিক ভূমিদস্যু নজরুল ইসলাম ভূইয়া এতোদিন আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে দখলবাজির মাধ্যমে জমির অবৈধ ব্যবসা করেছে। তখন জমি খেকো এই নজরুলের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তরিক আহমেদ সিদ্দিক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ, পুলিশের বেনজির, হারুণ, মনির, আসাদুজ্জামান মিয়া, হাবিব, আওয়ামী লীগ নেতা মৃত সাহারা খাতুন, তোফাজ্জল চেয়্যারম্যান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মফিজ, নাঈমসহ আরো অনেকে।
আশিয়ান সিটির ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা হলেন- আব্বাস আলী, ওলীউল্লাহ, রাশেদুল,নুরুল্লাহ, ফাহিম, আনিস, জিহাদ, নুরুল, সাইফুল, জাহিদুল, মজিবর, রিয়াজসহ আরো অনেকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই নজরুল এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ও বড়ুড়া মৌজায় প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে ভিটেমাটি ছাড়া করা হচ্ছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের হাতে জিম্মি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর