শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
আশুগঞ্জে মেঘনার ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে হাঁসের ডাক
বাবুল সিকদার, আশুগঞ্জ
প্রকাশ: রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৫:২৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের নাম চরসোনারামপুর। এই শীতের মৌসুমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অস্থায়ী খামারিরা মেঘনার এই চরে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা, নিকলী, মিঠামইন ও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসেন এই খামারিরা।

চরের চারপাশের পানিতে এখন ভেসে বেড়ায় প্রায় ৫ হাজার হাঁস।মেঘনার ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে হাঁসের হেলে-দুলে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয় সবাই। মেঘনা তীরবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চরে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁসের খামার। এখানে রয়েছে ৫টি হাঁসের খামার। এসব খামারে বর্তমানে ৫ হাজারেরও বেশি হাঁস রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে চরসোনারামপুরে হাঁসপালন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আটজন খামারী চরসোনারামপুরে হাঁসের খামার করেন।কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম,ইটনা,মিঠামইন ও লাখাই উপজেলা থেকে খামারিরা চরসোনারামপুরে এসে খামার করেন। আশুগঞ্জের এই চরের চারপাশ পানি থাকায় হাঁস পালনের জন্য অনুকূল একটা পরিবেশ। আর এই চরে হাঁসের খাবারেরও সহজলভ্যতা রয়েছে।

খামারিরা বলেন, আশুগঞ্জে বড় ধানের মোকাম থাকায় সারাবছরই ধান পাওয়া যায়। খাবারের পর্যাপ্ততা ও সহজলভ্যতার কারণে দ্রুত বেড়ে উঠে হাঁস। তাছাড়া নদীর দুই তীরে দুই পাশে শহর থাকায় ডিম বিক্রি থেকে শুরু করে সব কাজেই সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্ত খাবারের দাম বেশী এবং ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যাওয়ার কারনে এবং সরকারী ভাবে কোনো ধরনের সহযোগীতা না পাওয়ায় লাভের মুখ দেখতে পান না তারা। 

প্রতিমাসে মাত্র ১৪ হাজার টাকা বেতনে খামারে কাজ করেন, রায়পুড়া উপজেলার তুলাতুলি গ্রামের মোঃ সোহরাফ মিয়া তিনি বলেন খামারে হাঁস পালনে মালিকগণ লাভমান না হওয়ায় স্বল্প বেতনেই কাজ করতে হচ্ছে তাকে। 

তিনি বলেন মাত্র ১৪ হাজার টাকা বেতনে ভালো ভাবে চলছে না তার সংসার।কিশোরগঞ্জের নিকলি উপেজেলার মোঃ ইমাম হোসেন এর খামারে ৩ হাজার হাঁস ছিল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২ হাজার হাঁস মারাযায়।বর্তমানে তার খামারে হাঁস রয়েছে মাত্র ৯ শত এর মধ্যে প্রতিদিন ডিম পাচ্ছে পাঁচ শত। খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করে ভৈরব ও আশুগঞ্জ বাজারে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করা হয়।হাঁসের খাবার সহজে মিললেও সবই চড়া দামে কিনে নিতে হয় তাদের। তা না হলে লাভটা আরও বেশি হতো। 

আশুগঞ্জের খামারি আরাধন চন্দ্রদাস জানান, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যায়।কিন্ত কখনোই পশু চিকিৎসক আসেন না।ফলে পরামর্শের জন্য তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া সরকারিভাবে সরবরাহ করা ভ্যাকসিনও তারা পান না।বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে বেশি দামে কিনতে হয় ভ্যাকসিন।অনেক খামারি পুঁজির সমস্যার কথাও বললেন। 

তারা জানান, ব্যাংক থেকে তারা কখনোই ঋণ পাননি।বাধ্য হয়েই স্থানীয় আড়তদারদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ফলে আশানুরূপ লাভের মুখ দেখতে পান না তারা। লাভ চলে যায় আড়তদারের পেটে। তারা সহজ শর্তে ঋণ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 খামারিদের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.নূরজাহান বেগম বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। চরসোনারামপুরের খামারিরা আমাদের কাছে কম আসেন। তিনি আরও বলেন খামারীগণ আমাদের কাছে আসলে অব্যশই আমরা তাদেরকে সবধরনের সেবাদেয়ার কথা জানান তিনি। 

স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close