
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিষাক্ত ও দূষিত চিনির সাথে ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং মিশিয়ে তৈরি করছেন মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ভেজাল গুড়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে কারখানাটি। (৪ নভেম্বর) রাত ৯টায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পৌর শহরের রানীর বাজার শাহী মসজিদের সামনে মিশুক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা দেখতে পায় সাংবাদিকরা। মিশুক বাবুর পরিচালনায় কারখানাটি পরিচালনা করছেন তারই ছেলে শিমুল পোদ্দার।
কারখানা গিয়ে দেখা যায়, দূষিত চিনি আর ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং দিয়ে তৈরি করছে ভেজাল গুড়। সত্যতা দেখে এসময় কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে আসতে রাজি হয়নি। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের অনুপস্থিতি রহস্যের হয়ে রয়ে গেছে। এই কারখানাকে এর আগেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই গুড় স্বাস্থ্য সম্মত নয়। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভেজাল জিনিস পত্র দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে যা মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। এ কারণে আমি কারখানাটি তালাবদ্ধ করে চাবি রেখে দিয়েছি বলে জানান উপেজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম।
এ বিষয়ে কথা হলে নবাগত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন সাংবাদিকদের জানান ৫ নভেম্বর সকালে অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম জানান, কারখানার পাশেই আমি পরিবার নিয়ে তিনতলা বিল্ডিংয়ে থাকি। কারখানা কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি আমরা। পচা বাসি গন্ধে বমি পর্যন্ত হয়। আবাসিক এলাকায় কারখানা কীভাবে চালায়। এসময় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইয়াসিন মিয়া নামের এক হোটেল মালিক বলেন, আমরা ভয়ে কথা বলি না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তারা দীর্ঘদিন যাবত ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছে ৷
এ বিষয়ে কারখানা মালিক শিমুল পোদ্দার বলেন, চিনি দিয়েই আমি গুড় তৈরি করি। ইন্ডিয়া থেকে চিনি আসে। সারা বাংলাদেশেই চিনি দিয়ে গুড় তৈরি হয়। তাই আমিও তৈরি করি। আখের অনেক দাম আবার তা সারা বছার পাওয়া যায় না। তাই চিনিতেই ভরসা। সে আরো জানায়, প্রতিদিন ১০০ পাটা গুড় বানাতে পারেন। প্রতি বাটা গুড় বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ভৈরবে এক প্রভাবশালী নেতাকে নিয়মিত গুড় বানিয়ে দিতেন তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রির জন্য এবং নিজেও বিক্রি করতেন৷
এ বিষয়ে পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কারখানায় এসেছি। এই কারখানাকে এর আগেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৫ নভেম্বর সকালে অভিযান পরিচালনা করবেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন। আমি কারখানাটি তালাবদ্ধ করে চাবি রেখে দিয়েছি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভেজাল জিনিস পত্র দিয়ে তৈরি করছে গুড়। এই গুড় স্বাস্থ্য সম্মত নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, ভেজাল সব খাবারই মনব দেহের জন্য ক্ষতিকর। চিনি, ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং ব্যবহার করে তৈরি গুড় খেলে মানবদেহের অনেক ক্ষতি হবে।। প্রতিটি উপাদানই ক্ষতিকারক। এই ভেজাল গুড় মানুষের পেটে বেশি সমস্যা হবে। এতে করে লিভার নষ্ট হতে পারে। ধীরে ধীরে মানবদেহে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর